ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে আবারও বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ সোমবার সকাল সাতটা থেকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্ট তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় মহাসড়কের ওপর কাঠের গুঁড়ি ও আবর্জনা জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি দেখে কয়েকটি কারখানায় ছুটির নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, কিছুসংখ্যক শ্রমিকের সঙ্গে বহিরাগত লোকজন জড়ো হয়ে অবরোধে অংশ নিয়েছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে গতকাল রোববার সকাল থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর বাজার, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় বিক্ষোভ ও অবরোধ চলে। দুপুরের দিকে একটি কারখানার ঝুটের গুদাম ও পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। দিনভর উত্তেজনার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গতকাল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা ও মহানগর পুলিশ মিলে মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সূত্র: প্রথম আলো ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।




