ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের সফিপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, আর দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বিক্ষোভ শুধু সফিপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকাতেও সড়কে নেমে আসেন শ্রমিকেরা। রতনপুরের করোনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এদিন কাজ ছেড়ে বিক্ষোভে যোগ দেন।
সকাল গড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কোনাবাড়ীতে। মহাসড়কের মাঝখানে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়, আর বক্সের ভেতরের জিনিসপত্রও পুড়ে যায়। এ সময় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হোসাইন পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৭ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে বিজিবি
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে বিজিবি সদস্যরা ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। চন্দ্রা-পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী-মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগরা বাইপাস এলাকায় তাঁরা মোতায়েন থাকবেন।
এর আগে শনিবার রাতেও চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন শ্রমিকেরা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দেয়। এরপর রবিবার সকাল থেকে আবারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সরকার পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড




