হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি । হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে সাতক্ষীরা শহরের বেশ কিছু টিনের ঘর, কাঁচা বাড়ি, সেই সাথে শিলাবৃষ্টিতে ধান ও আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। গাছের ডাল ভেঙে তারের উপর পড়ায় এখনও বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে কিছু এলাকা।
জানা যায়,রোববার (২৯মার্চ) রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানো ও আকস্মিক এ ঝড় শুরু হয়। প্রবল দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে মুহূর্তেই জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।

জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘরবাড়ির চাল উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বড় গাছ ও ডালপালা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে, ফলে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সাতক্ষীরা শহরের সরকারি মহিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তারে আগুন ধরে যায়, এবং মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোইয়াফ আহমেদ । তিনি আরো জানান শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ছিড়ে পড়েছে।আমাদের লোকজন কাজ করছে রাতের মধ্যে বিদ্যুতের লাইন স্বাভাবিক হবে বলে তিনি জানান।

শহরের সুলতানপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে অন্তত ১৫টি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। এতে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শহরের কলেজ রোডে কয়েকটি বাড়ির বড় বড় গাছ পড়ে গেছে। এছাড়া করিম মেসের পিছনে মমিন এর দোকান গাছের ডাল পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া শিলাবৃষ্টির কারণে আম ও কৃষি জমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, হঠাৎ ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের চাল উড়ে যায়। অনেকেই কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি বলে জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেল প্রশাসন।

