27.2 C
Bangladesh
Tuesday, September 29, 2026
BRS TIMES
ঝিনাইদহে ওসির বিরুদ্ধে অপহরণ-গুমের নাটক সাজিয়ে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
প্রচ্ছদশিরোনামসারাদেশ

ঝিনাইদহে ওসির বিরুদ্ধে অপহরণ-গুমের নাটক সাজানো অভিযোগ

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের নাটক সাজিয়ে হয়রানি এবং ব্যবসায়িক পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে মিরাজ জামান রাজ উল্লেখ করেন, গত ৩ আগস্ট নতুন হাটখোলার ব্যবসায়ী লিমন সাহার কাছে তার ও এক আত্মীয়ের দীর্ঘদিনের পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য লিমনকে হামদহ এলাকার তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডেকে আনা হয়। সেখানে আলোচনা শেষে তিন মাসের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন—এমন একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন লিমন সাহা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন সন্ধ্যার পর ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান সরকারি নম্বর থেকে মিরাজ জামান রাজকে ফোন করে লিমন সাহাকে নিয়ে থানায় যেতে বলেন। অন্যথায় তাকে থানায় তুলে আনার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিরাজ জামান রাজের দাবি, থানায় যাওয়ার পর ওসি তাকে জানান, লিমন সাহার ভাই অমিত সাহা অপহরণ ও গুমের অভিযোগ করেছেন। পাওনা টাকা পরিশোধের চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্প থানায় জমা দিলে লিমন থানায় হাজির হবে—এমন কথাও তাকে বলা হয়। অন্যথায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারী আরও বলেন, এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গকুল চন্দ্র বিভিন্ন আইনের ধারার কথা উল্লেখ করে তাকে ভয়ভীতি দেখান। তিনি কর্মকর্তাদের জানান, লিমন সাহার মোবাইল ফোন সচল রয়েছে এবং সেটি ট্র্যাক করলে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। এরপরও তাকে প্রায় চার ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে পাওনা টাকার চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্প নিয়ে আসতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।

পরে ওসির সঙ্গে কথা বলার পর আশ্বস্ত হয়ে মিরাজ জামান রাজ পাওনা টাকার স্ট্যাম্পটি থানায় দেন। এরপর সহকর্মীদের নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে লিমন সাহার কথিত অপহরণের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই লিটনকে।

মিরাজের অভিযোগ, পরদিন থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে লিমন সাহার পক্ষ থেকে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি লিমন সাহাকে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিটনকে জানালে তিনি লিমনকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান এবং তাকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী বলেন, পরে লোকমুখে জানতে পারেন, এসআই লিটন লিমন সাহাকে থানায় ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করলেও এসআই লিটন ফোন ধরেননি বা পরে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেন মিরাজ জামান রাজ।

তার অভিযোগ, পুরো অপহরণ ও গুমের ঘটনাটি সাজানো এবং এর মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক পাওনা ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাওনা টাকার চুক্তিপত্রও থানা কর্তৃপক্ষ ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিরাজ জামান রাজ বলেন, “আমার পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমাকে থানায় আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং পাওনা টাকার চুক্তিপত্র নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তবে লিমন সাহার অপহরণ ও গুমের ঘটনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান।

তিনি বলেন, মিরাজ জামান রাজের কাছ থেকে স্ট্যাম্প উদ্ধারের পরদিনই কথিত অপহৃত ব্যক্তি লিমন সাহা থানায় হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিটনের সঙ্গে দেখা করে গেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Related posts

পুতিনকে ‘বন্ধু’ ডেকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বার্তা মোদির

News Desk

থাই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সিনওয়াত্রাকে অপসারণ করলো আদালত

News Desk

লালমোহনে “শান্তির প্রতিধ্বনি” তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

News Desk

ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ও তার মেয়ে

News Desk

গুমের শিকার পরিবারের মানববন্ধন

News Desk

নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে: প্রধান উপদেষ্টা

News Desk
Translate »