বাংলা গানের শ্রোতাদের জন্য আজ বিশেষ একটি দিন। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের জন্মদিন আজ (২৫ মার্চ)। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কোটি ভক্তের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তবে তার এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্পটি ছিল না সহজ।
সংগীতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা শাস্ত্রীয় তালিম ছাড়াই নিজের চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন তিনি। প্রিয় শিল্পীদের গান শুনে, নিয়মিত চর্চা আর অদম্য অধ্যবসায়েই তৈরি করেছেন নিজের পথ। এই স্বনির্ভর যাত্রাই তাকে এনে দিয়েছে ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ খ্যাতি।
১৯৭২ সালে কুমিল্লার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন আসিফ। ১৯৯৭ সালের ১৫ অক্টোবর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। শুরুতে সাউন্ডের ব্যবসা করার পরিকল্পনা থাকলেও সংগীতে নিজের জায়গা তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য। প্রথম দিকে ডেমো ভয়েস দেওয়া ও ছোটখাটো কাজ করেই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একসময় শওক আলী ইমনের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন প্রায় এক বছর। পরে ইথুন বাবুর হাত ধরেই অডিও অ্যালবামের সুযোগ পান। সেই অ্যালবাম সফল না হলে অন্য পেশায় যেতে হতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০০১ সালে প্রকাশিত ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামটি তার জীবনে বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অ্যালবামটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং বিক্রির দিক থেকেও গড়ে নতুন রেকর্ড। এক অ্যালবামেই রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন আসিফ।
তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠিন সময়। অর্থসংকট, পারিবারিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেই সময়ে ইথুন বাবুর সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বর্তমানে আসিফ আকবর শুধু একজন গায়ক নন, বরং একটি প্রজন্মের আবেগের নাম। ক্যাসেট যুগ থেকে শুরু করে ডিজিটাল মাধ্যম—সব জায়গাতেই তার গান সমান জনপ্রিয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার গান নিয়মিতই বিপুল দর্শকসংখ্যা পাচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও তার গান পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।
সংগীতের বাইরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়েও সরব তিনি। বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের মতামত নিয়মিত প্রকাশ করেন।
জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসায় ভাসছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। কেউ মনে করছেন পুরোনো দিনের স্মৃতি, কেউ বা লিখছেন তার গান ঘিরে নিজেদের জীবনের গল্প।

