জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সশস্ত্র সহিংসতায় জড়িত থাকা এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তৎপরতা চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রোববার (৮ নভেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন হাসান দিওবান্দ, হামিদ কাজেমি ও রেজা জাঙ্গানেহ। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর সাজা কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
যে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড হলো তিনজনের
ইরানের বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তিনজন কারাজ শহরে আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও মলোটভ ককটেল ব্যবহার করে সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন এবং একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এতে শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বিচার বিভাগ জানায়, সরকারি সম্পত্তিতে হামলা ও সহিংসতায় উসকানির সন্দেহে তদন্তের পর গত ১১ জানুয়ারি হাসান দিওবান্দকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর তত্ত্বাবধানে অশান্তিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই ১০ আসামিকে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির বিক্ষোভ ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে ইরান; এর মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে দণ্ডিতরাও রয়েছেন।
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভ ৮ ও ৯ জানুয়ারি চরম আকার নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হন বলে জানা গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, অশান্তিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান; এই সহিংসতার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে আসছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, এক সপ্তাহের কম সময়ে জানুয়ারির বিক্ষোভে জড়িত পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। বিক্ষোভ ঘিরে মৃত্যুদণ্ডের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।




