রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জে পদ্মা-মহানন্দার মোহনায় ছয় মৌজায় বালু লুটের রাজত্ব কায়েম করেছেন সাবেক ইজারাদার আবদুল মান্নাফ ও তার সিন্ডিকেট। স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষিত বালুমহাল থেকেই অবাধে তোলা হচ্ছে পলিমাটি ও বালু।
সুলতানগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএর নির্মিত নৌবন্দরটি বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকল রুটের অংশ; ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চলছে। বন্দরের ২০ কিলোমিটার গেজেটভুক্ত সীমানার মধ্যেই রয়েছে ছয়টি মৌজার বালুমহাল এলাকা।
ছয় মৌজায় বালু লুটের চিত্র
নৌবন্দরের কাছে বালু উত্তোলন ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি তোলার পর এ বছর জেলা মৃত্তিকা ও বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি বালুমহালটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সাবেক ইজারাদার মান্নাফ (মম এন্টারপ্রাইজ) সিন্ডিকেট নিয়ে উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক্সক্যাভেটর দিয়ে তোলা হচ্ছে উর্বর পলিমাটি; সুলতানগঞ্জ থেকে ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ড্রেজার। প্রতিদিন লাখ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে, আর ৪-৫টি পয়েন্ট দিয়ে শতাধিক ট্রাকে করে যাচ্ছে মাটি।
গত জুলাইয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মান্নাফ। ৬ আগস্টের আদেশে তিন মাস কাজের অনুমতি মেলে, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ৬ নভেম্বর। জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম দ্রুত আপিলের জন্য জরুরি চিঠি দিলেও অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহীর এক নেতার চাপে বিআইডব্লিউটিএ সদর দপ্তর আপিলে বিলম্ব করেছে; দ্বিতীয় দফার আদেশও গেছে মান্নাফের পক্ষে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, বালুমহাল বিলুপ্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এখন নেই। বিআইডব্লিউটিএ সদস্য মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, শিগগিরই আপিল করা হবে, কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে। মান্নাফের দাবি, তিনি আদালতের আদেশেই কাজ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরও ইজারার মেয়াদ শেষের পর অতিরিক্ত তিন মাস লুটপাট চালিয়েছিলেন মান্নাফ। কৃষির জন্য জমা হওয়া নতুন উর্বর পলির জমি উজাড় হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে প্রতিবাদ করে আসছেন স্থানীয়রা।




