BRS TIMES
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত, পরবর্তী মহাসচিব কে
জাতীয়প্রচ্ছদশিরোনামসারাদেশ

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত, পরবর্তী মহাসচিব কে?

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , এমন আলোচনা এখন বেশ জোরালো। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।

শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সম্মতিসূচক লিখিত বিবৃতিতেও মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলে সূত্রের দাবি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতি পদে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।

এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিএনপির ভেতরেও বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে , মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন?

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির ভেতরে এখন অনেকটাই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রায় সবাই মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা ফখরুল। তবে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এর আগে ২ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা লিখিত সম্মতিপত্র জমা দিতে হয়। মির্জা ফখরুল সেই বিবৃতিতে সই করেছেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।

কবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।

রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই ওই ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

ইতিমধ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইসি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে বিরোধী জোট

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় বিরোধী জোট। জোটটি বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে।

রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে বিরোধী জোট
রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে বিরোধী জোট

রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অলি আহমদের প্রার্থিতার কথা জানান।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলোতে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিরোধী জোটের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিএনপি সংস্কারের পথে এগোলে রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত। কিন্তু তা না হওয়ায় ১১-দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দিয়েছে।

কেন নির্বাচনে লড়ছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট?

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে বিএনপি এগিয়ে থাকায় অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও বিরোধী জোট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জামায়াতের একাধিক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে তারা সংসদে বিরোধী দলের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরতে চায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে তারা রাজনৈতিকভাবে একটি বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে?

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি খালি হবে। ফলে দলের ভেতরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন , এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসছেন?

মির্জা ফখরুল প্রায় ১৬ বছর ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

দলের কঠিন সময়ে তিনি বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময়ও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এখন তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির ভেতরে দুজন নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।

তাঁরা হলেন ,

  • সালাহউদ্দিন আহমদ
  • রুহুল কবির রিজভী

সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী দলের যুগ্ম মহাসচিব।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হতে পারেন রুহুল কবির রিজভী?

দলীয় সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিল বা এর আশপাশের সময়ে স্থায়ীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

রুহুল কবির রিজভী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি এবং তাঁকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। এ কারণে মহাসচিবের পদ শূন্য হলে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে দলের কিছু দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কীভাবে ভোট হবে?

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে। প্রত্যেক সংসদ সদস্য একটি করে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশন ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে।

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সাধারণত বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেয় না। কারণ ভোটের ফলাফল আগে থেকেই অনেকটা অনুমেয় থাকে।

তবে এবার সেই প্রচলিত চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধী জোট প্রার্থী দিয়েছে। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার শুধু নতুন একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিএনপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রশ্নও।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দীর্ঘদিনের মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। তখন তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, সেটি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে অলি আহমদকে প্রার্থী করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও দেখিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছে না। বরং নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে।

সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন , দুটি বিষয়ই এখন দেশের রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Related posts

বিশ্বকাপে সৌদি আরব-উরুগুয়ে ম্যাচও ড্র

brs@admin

এনসিপি ও এলডিপি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে : জামায়াত আমির

News Desk

রাজু ভাস্কর্যে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

brs@admin

সুমাইয়া জাফরিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

News Desk

পাক সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো চীনের অত্যাধুনিক ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’

News Desk

তফসিল ঘোষণার পর বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান

News Desk
Translate »