সংকটের সময় ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মেটা ও টিকটককে নজরদারি ও তথ্য যাচাই বাড়ানোর আহ্বান ইইউর ( ইউরোপীয় ইউনিয়ন ) ।
গত সপ্তাহে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় অভিবাসীদের ব্যাপক ঢলের পর শুক্রবার ইউরোপীয় কমিশন মেটা ও টিকটকের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক ভুল তথ্যই সেউতায় হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুর প্রবেশের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেউতার সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
প্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার হেনা ভিরকুনেন বলেন, ‘বিশেষ করে সংকটের পরিস্থিতিতে ডিজিটাল পরিসরের সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নজরদারি বাড়াতে হবে এবং তথ্য যাচাইকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।’ এ বিষয়ে সোমবার আবারও আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
সেউতা থেকে অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় স্পেন। দেশটির সরকার মঙ্গলবার জানায়, ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে ২ হাজার ছাড়া বাকি সবাই ফিরে গেছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইউরোপে নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে—এমন দাবির প্রমাণ হিসেবে ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়েছে ইউরোপের ডানপন্থী মহল। এ ঘটনা স্পেন ও ইইউর আরেক সদস্য ইতালির মধ্যেও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার মঙ্গলবার সেউতার ঘটনাকে ইউরোপীয় জোটের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ‘অপতথ্য মোকাবিলায় সক্ষমতার পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।



