কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গ্যাসের আগুন ছয় দিন ধরে জ্বলছে। নলকূপ খননের সময় উদগীরণ হওয়া এই আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যেই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক ও টু-ডি সিসমিক জরিপ শুরু করেছে পেট্রোবাংলা।
সব পরীক্ষায় নিশ্চিত হলে ইনানী হতে পারে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র। এমন আভাস দিয়েছেন বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিকুন আরহাম। তার ভাষ্য, নমুনা পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার হাইড্রোকার্বন ও কনডেনসেটের উপস্থিতির আভাস মিলেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ দরকার।
ইনানীতে গ্যাসের আগুন: শুরুটা যেভাবে
গত ২৭ অক্টোবর সকালে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। পাইপ প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে আগুন ধরে যায়।
আগুন জোর করে নেভানোর চেষ্টা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গ্যাসকে আপাতত উন্মুক্তভাবে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। কারণ, পথ বন্ধ করলে ভূগর্ভে উচ্চচাপ তৈরি হয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, নির্গত গ্যাসের উৎস সম্ভবত অগভীর গ্যাস মজুত বা ‘শ্যালো রিজার্ভার’। শিখার রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।
নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, সাময়িকভাবে বন্ধ আছে এলজিইডি সড়ক। ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল সার্বক্ষণিক ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, যেকোনো সময় বিস্ফোরণ কিংবা ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে আগুনের শিখা ও গ্যাসের চাপ মাপবে। শিখা না কমলে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে ‘রিলিফ কূপ’ খনন করে নির্গমন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে চালানো হবে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ। জরিপে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মজুতের প্রমাণ মিললে নতুন কূপ খননের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সতর্কতার মধ্যেও প্রতিদিন বিকেলে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন শত শত উৎসুক মানুষ। ছবি-ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে অনেকে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্র: পেট্রোবাংলার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় প্রতিবেদন অবলম্বনে।




