বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে এবার সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন উঠেছে। চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, এত উড়োজাহাজের প্রয়োজন ও যাত্রী চাহিদা আছে কি না, ক্রয় নীতিমালা মানা হয়েছে কি না, জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
রোববার সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি তোলেন কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামরুল হাসান। বিমানের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার ১৪টি বোয়িং ও ৫টি ড্যাশ-৮। চলতি বছর বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি ও এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। বোয়িংয়ের চুক্তির প্রথম ধাপ সই হয় এপ্রিলে, সম্পূরক চুক্তি সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে; এয়ারবাসের চুক্তি হয় অক্টোবরে।
বিমানের উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে যা বললেন বিমানমন্ত্রী
জবাবে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, এখনই কোনো উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে না। এগুলো আসবে পর্যায়ক্রমে, ৫ থেকে ১০ বছর পর। এখন শুধু বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। উড়োজাহাজ কেনার টাকা রাজস্ব থেকে ব্যয় হবে না, বিমানের পরিচালন আয় থেকেই এই অর্থ আসবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কেনার ব্যয় ‘সফট লোনের মাধ্যমে’ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালন আয় দিয়েই এই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সদস্যরা। অতীতের বিমানের কেনাকাটা ও টার্মিনালের ব্যয় বৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত আট মাসে সিভিল এভিয়েশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও কেনাকাটার প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশন, বিমান ও পর্যটনের কেনাকাটা, বদলি, নিয়োগ ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা তদারকিতে পাঁচ সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো ও আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অবলম্বনে।




