নেপালের গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোরখা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে বড় ধরনের বন্যার খবর পান তাঁরা। প্রাথমিক তথ্যে, সিউরিবাস এলাকার ওপরের দিকে ভূমিধসের কারণে এ বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার চেয়ারম্যান নিমা লামা জানান, ভূমিধসে চুমকে খোলা নামের একটি পাহাড়ি জলধারা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই বাধা থেকে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোত বুধি গণ্ডকী নদীতে নেমে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা কর্মকর্তা মিশ্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জগত এলাকার নদীর তলদেশে থাকা পাঁচ থেকে সাতটি বাড়ি পানির স্রোতে ভেসে গেছে। ভাটির দিকের আরও কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
নদীতীরের বাসিন্দাদের সতর্কতা
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) রোববার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বন্যার সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে ত্রিশুলি দোভান পর্যন্ত নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে বন্যার পানি নেমে যাওয়া পর্যন্ত নদীর কাছে না যেতে এবং উঁচু স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভোর ৪টার দিকে নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পানির সঙ্গে কাদা, পলি ও বড় বড় পাথর নেমে আসায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
জগত বাজার ও স্যালেরি এলাকার বাসিন্দারা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় চুমলিং ও লোকপাসহ নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারাও বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।
বন্যার কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন
স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, চেকামপার এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। এতে পানি জমে বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরে সেই বাধা ভেঙে প্রবল স্রোত নেমে আসে। তবে এ ধারণা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা কর্মকর্তা। অন্যদিকে, আরুঘাট এলাকার পুলিশ মাইকিং করে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
বন্যার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং নিখোঁজ কেউ রয়েছেন কি না, তা জানতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




