হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, আখতারুজ্জামানের পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শনিবার তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি স্বপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সকাল ৯টা ৮ মিনিটে পার্কিং করে।
পরে যাত্রীরা বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। এরপর তারা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যান।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় বিমানবন্দরে যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয়। এতে ট্রলি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ সময় কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভঙ্গ করে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন।
তবে মামলায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তার পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।




