মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে (Mecca Joint Defense Agreement) ইতিবাচকভাবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ও সামরিক চুক্তিতে যাওয়া উচিত।
সোমবার সকালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে এনসিপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স উপকমিটি স্টাডি করছে। বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতার চুক্তিতে যাওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।
কী এই মক্কা চুক্তি?
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক ও কৌশলগত চুক্তি। চুক্তিটি ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামেও আলোচিত হচ্ছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর আদলে এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সমরাস্ত্র উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়েও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হবে কি না কিংবা এর সঙ্গে কোনো ধরনের কৌশলগত সহযোগিতায় যাবে কি না—তা নিয়েও দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ে অভিযোগ
এদিকে, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নাগরিকদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন খাতে সিন্ডিকেটের কারণে মূল্যবৃদ্ধিতে জনমনে নাভিশ্বাস উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির মুখপাত্র।




