আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে নরওয়ে। এ জয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩জুন) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। গোলটি করেন মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন।
সেনেগালের ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালি নিজেদের বক্সের ঠিক বাইরে অবিশ্বাস্য এক ভুল করেন। তার পাস সরাসরি গিয়ে পড়ে বদলি খেলোয়াড় পেদারসেনের পায়ে। সুযোগ পেয়ে ডান প্রান্তের এই ডিফেন্ডার বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোল করেন। সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি বল ছুঁয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।
বিরতির পর ৪৮তম মিনিটে আলিং হলান্ডের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় নরওয়ের। সেনেগাল নরওয়ের অর্ধে আক্রমণ গড়ে তুলছিল। কিন্তু আলগা একটি পাস কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যান মার্টিন ওডেগার্ড। তার দুই পাশে সতীর্থরা এগিয়ে যাচ্ছিলেন দ্রুতগতিতে।
দুই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের বিপরীতে নরওয়ে পেয়ে যায় চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের সুবিধা। ওডেগার্ড বাম দিকে বল বাড়িয়ে দেন হলান্ডকে। হলান্ড অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না সেনেগালের অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির স্লাইডিং ট্যাকল বলকে স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়। এরপর প্রথম স্পর্শেই দুর্দান্ত শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দির কোনো সুযোগই ছিল না, বল সোজা চলে যায় জালের উপরের কোণে।
সেনেগাল দ্রুতই জবাব দেয়। সাদিও মানের চমৎকার ফ্লিক থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতরে অসাধারণ শক্তি ও দৃঢ়তা দেখান ইসমাইলা সার। ডেভিড মোলার উলফের চাপ সামলে তিনি সামনে এগিয়ে যান এবং শরীর প্রসারিত করে ৫৩তম মিনিটে জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ছাদে। গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড বলটি ছুঁতে পারলেও তা শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে পড়ে।
তবে ৫ মিনিট পরেই জোড়া গোল উদযাপন করেন হলান্ড। সেনেগাল যেন আবারও নিজেদের ভুলেরই শিকার হলো। নিজেদের বক্সের ভেতর দুই দফায় বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় তারা। সেই সুযোগে বক্সের বাঁ দিক থেকে প্যাট্রিক বার্গ মাঝখানে দারুণ একটি ক্রস তুলে দেন।
সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন হালান্ড। নিখুঁত ভলিতে তিনি বল জোরে জালে পাঠিয়ে দেন। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। নরওয়ের হয়ে এটি তার ৫২ ম্যাচে ৫৯তম গোল।
নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা তৃতীয় মিনিটে আরেকটি গোল শোধ দেয় সেনেগাল। ইসমাইলা সার আবারও দেখালেন তার নিখুঁত ফিনিশিং দক্ষতা। ক্রিস্টোফার আয়ের হেডে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। নিকোলাস জ্যাকসন বলটি বক্সের ভেতর সারকে দেন, যিনি তা নিয়ন্ত্রণ করে জোরালো শটে পাঠিয়ে দেন গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ডের জালে।
তবে বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

