মঙ্গলবার লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে এক অবিশ্বাস্য রাত দেখল আর্সেনাল। বুকায়ো সাকার গোলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে গেছে দলটি। বিশ বছর পর এই মঞ্চে পা রাখল আর্সেনাল।
গত সপ্তাহে মাদ্রিদে প্রথম লেগে ১-১ ড্র করেছিল মিকেল আর্তেতার দল। দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে জিতে ফাইনালের টিকেট পেল আর্সেনাল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সাকার গোলটি আসে। ভিক্টর ইয়োকেরেশ আতলেতিকোর রক্ষণ ভেঙে পাস দেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডকে। তার নিচু শট গোলকিপার ইয়ান অবল্যাক ঠেকিয়ে দেন, ফিরতি সুযোগ যায় সাকার কাছে। মাত্র চার গজ দূর থেকে সাকা গোল করেন।
সঙ্গে সঙ্গেই বাতাসে ঘুষি পাকালেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা, কারণ তিনি জানতেন ৪৪ মিনিটের এই ১-০ গোলের লিড তার দলের জন্য যথেষ্ট। একই কথা বোধ হয় জানত এমিরেটসের লাল সমুদ্রও, তাদেরও উচ্ছ্বাস বাঁধ ভেঙে দিচ্ছিল রীতিমতো।
দ্বিতীয়ার্ধে আতলেতিকো চেষ্টা করেছিল সমতা আনতে। কিন্তু গাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস শেষ মুহূর্তে জুলিয়ানো সিমিওনের শট ঠেকান। গোলকিপার ডেভিড রায়া আঁতোয়ান গ্রিজমানের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন।
আর্তেতা আগেই বলেছিলেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবে। এখন সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে মাত্র এক ধাপ বাকি।
আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে ফাইনাল খেলবে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষ হবে পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ। বুধবার মিউনিখে দ্বিতীয় লেগ খেলবে তারা। প্রথম লেগে পিএসজি ৫-৪ গোলে এগিয়ে আছে।
আর্সেনাল এর আগে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিল। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। এবার জিততে পারলে এটাই হবে ক্লাবের ইতিহাসের সেরা অর্জন।
আর্সেনালের ইউরোপিয়ান শিরোপার খাতায় মাত্র দুটি নাম আছে। ১৯৯৪ সালে কাপ উইনার্স কাপ আর ১৯৭০ সালে ইন্টার-সিটিজ ফেয়ার্স কাপ। সর্বশেষ ইউরোপিয়ান ফাইনালে ২০১৯ সালে চেলসির কাছে ৪-১ গোলে হারে তারা।

