দুই দলের আক্রমণাত্মক শুরুর পরও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। এরপর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে ভারতের একটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।
শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
চতুর্থ মিনিটে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে রোহেন সিংয়ের ক্রসে বক্সে মাথা ছোঁয়ান আরবাশ। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে। তিন মিনিট পর রোনানের শট সহজেই তালুবন্দি করেন ভারতীয় গোলকিপার সুরাজ সিং। প্রতি আক্রমণে বাংলাদেশ গোলকিপার মাহিনের পরীক্ষা নেয় ভারত।
১৩ মিনিটে রোনারের দারুণ ফ্রি কিক থেকে বক্সে হেড নেন মিঠু। তবে অল্পের জন্য বল খুঁজে পায়নি জালের দেখা। অল্পের জন্য গোল না পেয়ে হতাশায় মুখ ঢাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মানিকের পাসে গোলমুখের সামনে রোনানের দারুণ প্রচেষ্টা আটকে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।
৩২ মিনিটে বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোলকিপার মাহিন পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন, তবে বলের নাগাল পাননি। এ সময় বক্সের আশেপাশেই বল নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত, তখনও ফাঁকা পোস্ট; ডিফেন্ডারদের কল্যাণে এ যাত্রায় অরক্ষিত থাকে বাংলাদেশের পোস্ট। দুই মিনিট পর সেই একইভাবে উপরে উঠে এসে বাংলাদেশকে বিপদে প্রায় ফেলছিলেন মাহিন। এবারও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ছিলেন সজাগ।
৩৬ মিনিটে আবারও গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে ভারত। কর্নার কিকের পর গোলমুখের সামনে জটলা তৈরি হয়। একাধিক প্রচেষ্টার পর গোলে হেড নেন ভারতের জর্ডিক আবরানচেস। তবে অনায়াসেই বল গ্লাভসবন্দি করেন মাহিন।
যোগ করা সময়ে মোর্শেদের ফ্রি কিক ভারতীয় রক্ষণের দৃঢ়তায় ফিরে আসে। বক্সের একদম সামনে থেকে ফিরতি বলে অনেকটা ওভারহেড কিকের মতো শট নেন রোনান। তবে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। এ সময় টানা আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। যদিও গোল আদায় করতে পারেননি রোনান, মোর্শেদরা। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ । ৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৫১ মিনিটে ভারত টানা আক্রমণ চালিয়ে বলের পজিশন নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে। তবে ৫৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।
ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৬২ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ আসে রোনানের সামনে। বক্সের সামনে থেকে মানিকের উড়িয়ে মারা বল বুক দিয়ে মাটিতে নামাতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ হারান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর থ্রো থেকে বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ভারত।
৬৬ মিনিটে নাজমুল ফয়সালকে তুলে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৮২ মিনিটে আরবাশের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের উপরের জাল কাঁপায়। পরের মিনিটে ৮ এর নিচু ক্রসে গোলমুখের সামনে বলে টোকা দেন রিসি যাদব। তবে বল চলে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৯০ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। তবে বক্সে ঢুকলে ডেকলানকে কর্নার করে দেন ভারতের ডিফেন্ডার বুনসং সিং। এরপর সেট পিসে অসফল হয় বাংলাদেশ।
প্রথম পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দেন মাহিন। ভারতের রিষি সিংয়ের নেওয়া নিচু শট ডান দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার। এরপর বা-পায়ের নিচু শটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মোর্শেদ।
নিজেদের দ্বিতীয় শটে মোহাম্মদ আরবাশ গতিময় শটে পরাস্ত করেন মাহিনকে। ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শটে জাল কাঁপান চন্দন রায়।
তৃতীয় শটে স্যামসন সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের হাতে তখনও এক বাকি ছিল। আবদুল রিয়াদ ফাহিমের সফল স্পটকিকে আবার লিড নেয় বাংলাদেশ।
ভিশাল যাদব চতুর্থ শটে আবার সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাাকশাম টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে চাইলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দুই দলের চার শট নেওয়ার পর ৩-৩ সমতা বিরাজ করে। এরপর শেষ শট নিতে এসে একইভাবে মিস করেন ভারতের ওমাং দোদুম। ফাইনাল কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনান। চাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ।

