দুই মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ১০টি ক্লাস নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক খায়রুল কবীর মেনন। তিনটি কোর্সে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি, মোট ৬২টি ক্লাস নিয়েছেন তিনি।
১৯৯৬ সালে একাডেমির বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একাডেমির কোনো সদস্য বাইরের প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণে ১০টির বেশি ক্লাস নিতে পারবেন না। গত ৯ জুলাই একাডেমির নিজস্ব কমিটির সভাতেও সচিব বা প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য সর্বোচ্চ ১০টি সেশনের সুপারিশ করা হয়।
তিন কোর্সে এনএপিডি মহাপরিচালকের ৬২ ক্লাস
খায়রুল কবীর মেনন গত ১৭ জুন এনএপিডির মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর যোগদানের পর ১২ জুলাই শুরু হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৩৫তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি একাই ৩০টি ক্লাস নেন। প্রতিটি ক্লাসের জন্য সম্মানী ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা।
একই সময়ে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রতিটিতে তিনি ১৬টি করে ক্লাস নেন। নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী তিনটি কোর্সে তাঁর সর্বোচ্চ ৩০টি ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল।
ক্লাসের বাইরেও সম্প্রসারণ বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার, শিক্ষাসফর, বই পর্যালোচনা সভা এবং উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্মানী নেন মহাপরিচালক। সব মিলিয়ে তাঁর ক্লাস ও অংশগ্রহণের সংখ্যা অন্তত ৭৫। ফলে চার মাসের দায়িত্বকালে তিনি মোট কত টাকা সম্মানী পেয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া সম্মানীর ২০ শতাংশ হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়, যা একাডেমির পেনশন তহবিলে যায়। এই নিয়মও তিনি মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনএপিডির কর্মকর্তারা বলছেন, মহাপরিচালক নিজেই বেশি ক্লাস নেওয়ায় বাইরের রিসোর্স পারসনদের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকায় প্রকাশ্যে কেউ আপত্তি জানাতে পারছেন না।
তাঁদের মতে, বিষয়টি শুধু আর্থিক নয়, নিয়ম ও নৈতিকতারও। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তার ভাষ্য, দুই মাসের কোর্সে বেশির ভাগ ক্লাস একজন নিলে তা দৃষ্টিকটু লাগে এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ভিন্ন মতামত শোনার সুযোগ কমে যায়।
তবে খায়রুল কবীর মেননের বক্তব্য, মহাপরিচালক সর্বোচ্চ ১০টি ক্লাস নেবেন, এটা মানা বাধ্যতামূলক নয়; বিগত সময়ে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং অন্য মহাপরিচালকেরা এর চেয়ে বেশি ক্লাস নিয়েছেন।
২০ শতাংশ জমা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রেষণে আসেন, এই প্রতিষ্ঠানের পেনশন থেকে তাঁরা সুফল পাবেন না। বোর্ডের পরবর্তী সভায় এসব নিয়ম সংশোধনের প্রস্তাব তুলবেন বলেও জানান তিনি।




