সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে পিরোজপুরে। এ জন্য জেলায় ৪৯২ জন তথ্যসংগ্রাহক ও ৪৯ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে জেলার সাতটি উপজেলার নির্ধারিত ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে ১২০টি ট্যাব ব্যবহার করা হবে। পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহের পরিধি বাড়ানো হবে।
জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা, নাজিরপুরের শেখমাটিয়া, জিয়ানগরের পাড়েরহাট, মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়া, ভান্ডারিয়ার ধাওয়া, কাউখালীর সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন এবং নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি পৌরসভায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
নিয়োগ পাওয়া তথ্যসংগ্রাহকেরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। অন্যদিকে, সুপারভাইজাররা তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম তদারকি করবেন।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর সদর উপজেলায় ৪৪ জন, কাউখালীতে ২৯ জন, জিয়ানগরে ৩৪ জন, ভান্ডারিয়ায় ৭০ জন, মঠবাড়িয়ায় ১১৭ জন, নেছারাবাদে ৯২ জন, নাজিরপুরে ৭৪ জন এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে ৩২ জন তথ্যসংগ্রাহক রয়েছেন। এ সংখ্যার মধ্যে নিয়মিত ও রিজার্ভ কর্মী অন্তর্ভুক্ত।
সুপারভাইজারদের মধ্যে পিরোজপুর সদরে চারজন, কাউখালীতে তিনজন, জিয়ানগরে তিনজন, ভান্ডারিয়ায় সাতজন, মঠবাড়িয়ায় ১২ জন, নেছারাবাদে নয়জন, নাজিরপুরে আটজন এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে তিনজন দায়িত্ব পালন করবেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং যোগ্য পরিবারকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করার পাশাপাশি কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রেস কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহামুদুর রহমান মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দিন আল মাদানী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পজেটিভ পিরোজপুরের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।




