33.7 C
Bangladesh
Tuesday, September 29, 2026
BRS TIMES
ফিফার বাড়তি অর্থ পেতে পারে বাংলাদেশ
অন্যান্য সংবাদখেলাধূলাপ্রচ্ছদশিরোনাম

ফিফার বাড়তি অর্থ পেতে পারে বাংলাদেশ

ফিফার উন্নয়ন তহবিল থেকে নিয়মিত অর্থ পেয়ে থাকে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনগুলো। ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমি, বয়সভিত্তিক দল, নারী ফুটবল, কোচিং ও তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যয় করা হয়। এবার নিয়মিত উন্নয়ন সহায়তার বাইরে সদস্য দেশগুলোর জন্য আরও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের ফুটবলেও অতিরিক্ত অর্থ আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের পক্ষ থেকে ফিফার রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোর জন্য মোট ২১০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চক্রে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার বা ১ কোটি ডলার করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একইভাবে অর্থ বিতরণের শর্ত, সময়সূচি এবং কোন কোন খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, সেটিও ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতি সদস্য দেশকে অন্তত ১ কোটি ডলারের প্রস্তাব

চলতি মাসে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে ২০২৭-২০৩০ চক্রে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

এই অর্থ ফিফার বিদ্যমান উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সদস্য দেশগুলো নিয়মিত যে উন্নয়ন সহায়তা পেয়ে থাকে, তার বাইরে নতুন করে এই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ফিফার রিজার্ভের স্বতন্ত্র পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছেন উয়েফা ও কনকাকাফের দুই সভাপতি।

১৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে সেফেরিন ও মন্টাগলিয়ানি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিতরণের পরও পরবর্তী চক্রজুড়ে ফিফার রিজার্ভ ১৫০ কোটি ডলারের বেশি রাখা সম্ভব হবে।

তাদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ফিফার অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না। কারণ, তাদের হিসাব অনুযায়ী ফিফার বিদ্যমান আর্থিক সক্ষমতা থেকেই সদস্য দেশগুলোর জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য কত হতে পারে?

উয়েফা ও কনকাকাফের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি যদি একই কাঠামোতে অনুমোদিত হয়, তাহলে বাংলাদেশও এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।

তবে এখনই বাংলাদেশের জন্য ১ কোটি ডলার নিশ্চিত বরাদ্দ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি এবং ফিফার আর্থিক যাচাই ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও জানিয়েছেন, আর্থিক যাচাই ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আগে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ককে সদস্য দেশগুলোর জন্য অনুমোদিত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

অর্থাৎ, ১০ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য অঙ্ক হলেও এটি এখনো নিশ্চিত বরাদ্দ নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সদস্য দেশ কত অর্থ পাবে এবং সেই অর্থ কীভাবে বিতরণ করা হবে।

১৫ অক্টোবরের বৈঠকে মিলতে পারে পরিষ্কার ধারণা

বাড়তি অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের তাদের আর্থিক হিসাব, বিভিন্ন অনুমান এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ফিফার মহাসচিবের কাছে জমা দিতে বলেছেন।

ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো এসব হিসাব ও অনুমানের যথার্থতা যাচাই করবে। এরপর ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ, বিতরণের সময়সূচি এবং অর্থ পাওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এ ছাড়া ফিফার আর্থিক দায়বদ্ধতা ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় কত পরিমাণ রিজার্ভ রাখা প্রয়োজন, সদস্য দেশগুলোর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবেদন দিতে হবে এবং নিরীক্ষার শর্ত কী হবে—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

কোনো কোনো কনফেডারেশন যদি কাঠামোগত ও প্রমাণযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ে, তাদের জন্য আলাদা সহায়তার বিষয়টিও মূল্যায়নে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলে ১৫ অক্টোবরের বৈঠকেই কাউন্সিলের কাছে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষ করা সম্ভব না হলে কাজ শেষ করার জন্য ‘সবচেয়ে কম সময়ের যুক্তিসংগত’ সময়সীমা নির্ধারণ করতে কাউন্সিলকে বলা হবে।

বাতিল হওয়া বিনিয়োগ পরিকল্পনার পক্ষে ইনফান্তিনো

ফিফার ‘ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার একটি পরিকল্পনা গত জুলাইয়ে বাতিল করা হয়। উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ কয়েকটি কনফেডারেশন পর্যাপ্ত পরামর্শ না করার অভিযোগ তুলে ওই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল।

তবে ইনফান্তিনো তার চিঠিতে ওই পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ফিফার বিদ্যমান সম্পদ থেকে দেওয়া অর্থের বিকল্প তৈরি করা নয়। বরং বিদ্যমান অর্থের বাইরে আরও অর্থ সংগ্রহ করে বিশ্ব ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোই ছিল এর লক্ষ্য।

ইনফান্তিনোর ভাষায়, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তা ফিফার বিদ্যমান অর্থায়নের ‘অতিরিক্ত’ অর্থ হিসেবে কাজ করত। অর্থাৎ, নিয়মিত উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ কমিয়ে নয়, বরং নতুন উৎস থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পর ফিফার পরিচালনব্যবস্থা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

বাড়তি অর্থ এলে বাংলাদেশের ফুটবলে কী প্রভাব পড়তে পারে?

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের জন্য ফুটবল উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এই অর্থ ব্যবহার করা গেলে দেশের ফুটবলের বিভিন্ন স্তরে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বাড়তে পারে।

সম্ভাব্য অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন, ফুটবল একাডেমি, বয়সভিত্তিক দল, নারী ফুটবল, কোচিং, রেফারিং এবং তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমে বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, প্রতিভা খোঁজা এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনেও অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব খাতে অর্থ সরাসরি ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অর্থ বিতরণের শর্তের ওপর। অর্থের ব্যবহার, হিসাব সংরক্ষণ, প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষার বিষয়ে ফিফা কী ধরনের নিয়ম নির্ধারণ করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ফুটবল দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও তৃণমূল উন্নয়ন কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলে সেটি দেশের ফুটবল প্রশাসনের জন্য নতুন একটি আর্থিক পরিসর তৈরি করতে পারে। তবে সেই অর্থের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে কীভাবে তা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও তদারকি করা হয় তার ওপর।

‘যতটা দায়িত্বশীলভাবে দেওয়া সম্ভব, ততটাই’

বাড়তি অর্থের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক আগেভাগে নির্ধারণ করতে চান না বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে ফিফার নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে যতটা বেশি অর্থ দেওয়া সম্ভব, তিনি ততটাই দেওয়ার পক্ষে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য।

ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে কনফেডারেশনগুলোর কাছ থেকেও প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইনফান্তিনো তাদের ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, মতবিরোধ না থাকাই আস্থা নয়। বরং মতবিরোধের মধ্যেও সরাসরি আলোচনায় বসা, তথ্য ও বাস্তবতার আলোকে প্রস্তাব যাচাই করা এবং প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করাই আস্থার প্রমাণ।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের নজর ১৫ অক্টোবরের দিকে

ফিফার বাড়তি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে বাংলাদেশ ঠিক কত অর্থ পেতে পারে, সেটিও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে উয়েফা ও কনকাকাফের প্রস্তাব অনুযায়ী ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেকের জন্য অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলারের যে কাঠামোর কথা বলা হয়েছে, তা অনুমোদিত হলে বাংলাদেশও সেই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকের পর এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেদিনের আলোচনায় অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ, বিতরণের সময়সূচি, সদস্য দেশগুলোর যোগ্যতা এবং অর্থ ব্যবহারের শর্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ধারিত হতে পারে।

ফলে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনের নজর এখন ফিফার ওই কাউন্সিল বৈঠকের দিকে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে বাংলাদেশসহ ফিফার সদস্য দেশগুলো অতিরিক্ত কত অর্থ পাবে এবং কোন শর্তে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

Related posts

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বুলবুলকে হুমকি, গানম্যান চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

News Desk

স্থায়ী বহিষ্কার হলেন ঢাবি ছাত্রদলের ৬ নেতা

News Desk

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

News Desk

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

brs@admin

বাংলাদেশের পাট আমদানিতে আগ্রহী ইন্দোনেশিয়া : রাষ্ট্রদূত

brs@admin

কী বার্তা দিলেন তমা মির্জা?

News Desk
Translate »