সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন এই পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি অবসরভোগীদের নিট পেনশনও স্ল্যাবভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সরকার জানিয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন বেতনস্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় পুরো বেতনস্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
অবসরভোগীদের পেনশন বাড়বে যেভাবে
নতুন পে-স্কেলে অবসরভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্ল্যাব অনুযায়ী—
- ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ।
- ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।
- ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ।
- ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬০ শতাংশ।
- ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ।
এর ফলে যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পান, তাদের পেনশন বৃদ্ধির হার বেশি হবে।
থাকছে আরও কিছু সুবিধা
নতুন বেতনস্কেলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন।
সরকারের হিসাবে, নতুন বেতনস্কেলের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকারের আশা, পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখবে।



