ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অমিত হাসান বলেছেন, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাবেন তিনি। তার মতে, ধর্ম ও পেশা দুটি আলাদা বিষয় এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে দুটিই পালন করা সম্ভব।
নব্বইয়ের দশক থেকে দীর্ঘ সময় বড়পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন অমিত হাসান। নায়ক হিসেবে সাফল্যের পর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেও নিজের অবস্থান ধরে রাখেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে বড়পর্দায় তার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বেছে বেছে কাজ করছেন এই অভিনেতা।
অমিত হাসান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও মাঝে মাঝে দেশে এসে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। সম্প্রতি দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) দেখা যায় তাকে। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের ব্যক্তিজীবন, ধর্মচর্চা ও অভিনয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ধর্ম পালন করতে গিয়ে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ দেখেন না অমিত হাসান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধর্মটা নিজের কাছে। আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি দেখে ধর্ম করব না, আবার ধর্ম করব দেখে চলচ্চিত্রও ছেড়ে দেব—বিষয়টা এমন নয়। যার যার ব্যক্তিগত চিন্তা থাকতে পারে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, আমার ধর্ম-কর্ম আমার কাছে।’
নিজের পেশাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘এফডিসি বা অভিনয় হচ্ছে আমার কর্ম। আজকে মানুষ আমাকে অমিত হাসান হিসেবে চেনে আমার কাজের কারণে। এই কাজের মাধ্যমেই আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার পরিবারও এই পেশার মাধ্যমে চলেছে।’
ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে অমিত হাসান বলেন, ‘আমি অবশ্যই আল্লাহকে ডাকব, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব, রোজা করব, হজ করব। এগুলো আমার ধর্মীয় দায়িত্ব। পাশাপাশি অভিনয়ও করব। কারণ এই অভিনয়ের মাধ্যমেই মানুষ আমাকে চিনেছে।’
ধর্ম ও কর্মকে আলাদা জায়গায় রেখে চলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, ধর্ম এক জিনিস, কর্ম আরেক জিনিস। দুটোকে আমি নিজের জায়গা থেকে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আছেন, আমি সবসময় সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি ধর্ম পালনও করার চেষ্টা করেছি।’
নিজের কাজ ও ধর্মীয় জীবনের মূল্যায়ন মানুষের হাতে নয়, সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন অমিত হাসান। তার ভাষায়, ‘আমি কতটা ভালো করতে পেরেছি, কতটা পারিনি সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি। কাজের জায়গায় সৎ থাকার চেষ্টা করেছি, আর ধর্মের জায়গাতেও নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।’




