পদ্মা সেতু দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ভোলা (ইলিশা ঘাট) পর্যন্ত এই যাত্রাপথের মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা চোখে পড়ে, যা নিয়ে প্রচলিত আলোচনায় তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
বর্তমানের প্রস্তাবিত ভোলা – মেহেন্দিগঞ্জ – হিজলা – মুলাদী – রহমতপুর (বরিশাল) সড়ক নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা মূলত বরিশাল শহরের সাথে সংযোগের দিকেই কেন্দ্রীভূত। কিন্তু মানচিত্র অনুযায়ী স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মুলাদী থেকে উত্তরমুখী শরীয়তপুর সদর হয়ে নাওডোবা (জাজিরা) পর্যন্ত একটি সড়ক-অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে সরাসরি পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত গিয়ে এ সড়কটি মিলিত হতে পারে। এই অংশটুকু যদি যথাযথভাবে সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন করা হয়, তাহলে ভোলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র সড়ক করিডোর তৈরি হয়ে যাবে, যা বর্তমান প্রচলিত পথের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
বর্তমানে ভোলা থেকে ঢাকায় যেতে হলে মূলত নৌপথ অথবা লঞ্চ-ফেরি নির্ভর দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ পথ পাড়ি দিতে হয়। প্রস্তাবিত এই সড়ক-করিডোর বাস্তবায়িত হলে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা—এই উপজেলাগুলোর মানুষ সরাসরি সড়কপথে, স্বল্প সময়ে রাজধানীর সাথে যুক্ত হতে পারবে। এতে শুধু ভোলা জেলা নয়, বরিশাল বিভাগের একটি বড় অংশের মানুষের জন্যই যাতায়াত সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে, যা বর্তমান নদীনির্ভর যোগাযোগের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা অনেকাংশে দূর করবে।
সড়ক অবকাঠামো একবার প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে এই একই করিডোর ধরে রেললাইন সম্প্রসারণের একটি বাস্তবসম্মত পথও তৈরি হতে পারে। পদ্মা সেতুতে ইতোমধ্যে রেল সংযোগ রয়েছে; সেই সূত্র ধরে যদি ভবিষ্যতে নাওডোবা – শরীয়তপুর – মুলাদী – মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হয়, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদগুলো জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সাথে প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এটি কেবল যাত্রী পরিবহনই নয়, বরং কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন গতি দিতে পারে।
এই বিকল্প পথ শুধু যাতায়াতের সুবিধা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঢাকার সাথে সরাসরি ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ থাকলে এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই মিডিয়া ও নীতিনির্ধারকদের উচিত শুধু বরিশাল-কেন্দ্রিক সংযোগের বাইরে গিয়ে, এই মুলাদী-শরীয়তপুর-নাওডোবা অংশটুকুর সম্ভাবনা নিয়েও পৃথকভাবে আলোচনা ও পরিকল্পনা করা।
গাজী নজরুল ইসলাম
সাবেক শিক্ষক, ভোলা সরকারি কলেজ




