ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ও ব্রেন্ট ক্রুড—দুই ধরনের তেলের দামই কমেছে।
এদিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমেছে। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
লিটারে কত টাকা?
এক ব্যারেলে সাধারণত ১৫৮ দশমিক ৯৮ লিটার তেল থাকে। এক মার্কিন ডলারের মূল্য ১২২ দশমিক ১৫ টাকা ধরে হিসাব করলে, সোমবার বিশ্ববাজারে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ৬৬ টাকা।
অন্যদিকে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি লিটার প্রায় ৭২ টাকা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই হিসাব বাংলাদেশের ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হওয়া জ্বালানি তেলের দাম নয়। দেশে আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, পরিশোধন, পরিবহন ও বিপণনসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হওয়ার পর জ্বালানির চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
ইরানকে ঘিরে তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংক (সিবিএ) মনে করছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ কতটা সফল হয় এবং এর জবাবে তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর বাজারের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
সিবিএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে।
ব্যাংকটির ধারণা, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। তবে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দাম এই সীমার নিচের দিকে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আগের মাত্রার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে ফিরলেও বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম আরও কমার চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: সিএনবিসি



