31.4 C
Bangladesh
Monday, August 24, 2026
BRS TIMES
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারের আজ্ঞাবহ’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আশঙ্কা
অন্যান্য সংবাদপ্রচ্ছদশিরোনাম

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারের আজ্ঞাবহ’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আশঙ্কা: Odhikar, UVED ও VOED

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন Odhikar, United for the Victims of Enforced Disappearances (UVED) এবং Voice of Enforced Disappeared Persons (VOED)

রোববার (১৬ আগস্ট) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন তিনটি বলেছে, গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর খসড়া সংসদে পাস হলে কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং কমিশনের সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনগুলো।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করার ক্ষমতা থাকা উচিত। কমিশনের যেকোনো বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতাও থাকতে হবে।

কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের ১৯ ধারায় শৃঙ্খলা বাহিনী বা এর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশন নিজ উদ্যোগে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে না বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো।

তাদের দাবি, এসব অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই রাখা হয়েছে। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে এবং অতীতের মতো দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অতীতের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা

বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করে সংগঠনগুলো।

তাদের অভিযোগ, ওই সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাধারণ নাগরিকরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হলেও তৎকালীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।

সংগঠনগুলোর দাবি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দলীয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ওই অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করায় তা ল্যাপসড হয়ে যায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের সদস্য নিয়োগ নিয়েও আপত্তি

যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিয়োগের প্রস্তাবিত পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে Odhikar, UVED ও VOED।

সংগঠনগুলোর মতে, প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনের সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমাজের বহুত্ববাদী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকলেও তাঁদের ভূমিকা পরামর্শমূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

কিন্তু প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর ৭ ধারা অনুযায়ী নয় সদস্যের বাছাই কমিটিতে সরকারের প্রভাব বেশি থাকবে বলে দাবি করেছে সংগঠনগুলো।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের দুই মন্ত্রী, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি থাকবেন। বাকি সদস্যদের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মনোনয়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ কারণে বাছাই কমিটির নয় সদস্যের মধ্যে আটজনই সরকার-সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠন তিনটি।

এ ছাড়া বাছাই কমিটিতে নারীর পৃথক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় এটিকেও বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যের দাবি

Odhikar, UVED ও VOED বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত খসড়ায় ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের জনআকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।

তাদের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্যারিস নীতিমালার মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংগঠন তিনটি দাবি করেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা এবং সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব কমিয়ে প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনের বিতর্কিত বিষয়গুলো সংশোধন করে প্যারিস নীতিমালা অনুসরণ করে আইন প্রণয়ন করা হলে তা দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের ভাবমূর্তিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করে সংগঠনগুলো।

Related posts

ইউক্রেনে স্থল নৌ ও আকাশপথে সেনা পাঠাতে প্রস্তত ২৬ দেশ

News Desk

শ্লীলতাহানির মামলা, আদালতে পরীমণি

brs@admin

তুরস্কের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান

News Desk

রাজধানীতে শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

News Desk

২৫ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশ

brs@admin

ড. ইউনূসের ভাই-ব্রাদার কোটায় আসছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা : হাসনাত আব্দুল্লাহ

News Desk
Translate »