27.3 C
Bangladesh
Wednesday, September 30, 2026
BRS TIMES
শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়প্রচ্ছদশিক্ষাশিরোনাম

শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে এই অর্থ সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কিছুটা হলেও অবসান হয়েছে।

শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ পেতে হয়রানির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। তাদেরই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা দিনের পর দিন অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতারও প্রকাশ।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে ব্যাংকে শিক্ষকদের পাওনা টাকা পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।’

অবসরকালীন সুবিধার অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়া সহজ ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টরের মতো শিক্ষকদের এই দুটি তহবিল থেকেও লুটপাট চালিয়েছিল।’

তার দাবি, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো অর্থ পাচ্ছিলেন না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুরবস্থা বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ তাদের টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

গভীর শ্রদ্ধায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ তার দূরদর্শী উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এসব তহবিলের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া প্রবর্তিত ‘শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারী শিক্ষার জন্য বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ’ বিশ্বজুড়ে একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে সমাদৃত।

শিক্ষিত সমাজ গঠনে শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশার সৃষ্টি করে। আপনারা প্রচলিত নিয়মে অবসরে গেলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি।’

তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Related posts

স্থলপথে রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা: বেনাপোলে আটকে ৩৬ ট্রাক গার্মেন্টস পণ্য

brs@admin

গুম তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষমতার দাবি অধিকার এর

News Desk

জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিকাণ্ড

News Desk

দেশের অডিটরদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বেশির ভাগই মানসম্পন্ন নয় : অর্থ উপদেষ্টা

brs@admin

বিকেলে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

brs@admin

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

brs@admin
Translate »