BRS TIMES
দ্য ওডিসি’র সাফল্যের রহস্য কী ২২ দিনে ১২ হাজার কোটি টাকা আয়
বিনোদন

দ্য ওডিসি’র সাফল্যের রহস্য কী? ২২ দিনে ১২ হাজার কোটি টাকা আয়

ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমা এখন আর শুধু সিনেমা নয়, অনেকের কাছে যেন আলাদা এক সিনেম্যাটিক ইভেন্ট। তার নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তির পর বক্স অফিসে যে গতি দেখিয়েছে, তা সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সিনেমা মাত্র ২২ দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

প্রায় তিন ঘণ্টার এই সিনেমায় নেই কোনো সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজি, নেই শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে বানানো অ্যানিমেশন। তারপরও এত দ্রুত এক বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ঢুকে পড়েছে ‘দ্য ওডিসি’। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কী এমন আছে এই সিনেমায়?

নোলানের নামই এখন বড় এক ব্র্যান্ড

‘দ্য ডার্ক নাইট’, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডানকার্ক’, ‘টেনেট’ এবং ‘ওপেনহেইমার’ , প্রতিটি সিনেমা দিয়েই ক্রিস্টোফার নোলান দর্শকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন।

নোলানের নামই এখন বড় এক ব্র্যান্ড

বিশেষ করে ‘ওপেনহেইমার’-এর বিশাল সাফল্যের পর নোলানের নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। ফলে ‘দ্য ওডিসি’র ক্ষেত্রে অনেক দর্শকের কাছে গল্পটি নতুন কি না, সেটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং কৌতূহল ছিল, নোলান হোমারের বিখ্যাত মহাকাব্যকে কীভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন?

এটাই সিনেমাটির অন্যতম বড় বিপণন শক্তি হয়ে উঠেছে।

তিন হাজার বছরের পুরোনো গল্প, কিন্তু আবেগ আজও পরিচিত

‘দ্য ওডিসি’র গল্পের কেন্দ্রে গ্রিক রাজা ওডিসিউস। দীর্ঘ যুদ্ধের পর তাঁর লক্ষ্য বাড়ি ফেরা। কিন্তু সেই পথে রয়েছে একের পর এক বিপদ, শত্রু, প্রলোভন, অজানা জগত এবং ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই।

গল্পটি হাজার হাজার বছরের পুরোনো হলেও এর আবেগ একেবারেই পরিচিত। পরিবার, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, যুদ্ধ, প্রতিশোধ, ক্ষমতা ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা, এসব অনুভূতি আজও মানুষের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দ্য ওডিসি

নোলানের বড় কৃতিত্ব এখানেই। তিনি শুধু গ্রিক পুরাণের গল্প হিসেবে ‘দ্য ওডিসি’কে দেখাননি। বরং একজন মানুষের দীর্ঘ বাড়ি ফেরার যাত্রাকে বড় পর্দার অ্যাডভেঞ্চারে পরিণত করেছেন।

আইম্যাক্সে বিপুল ব্যবসা

‘দ্য ওডিসি’র সাফল্যের পেছনে আইম্যাক্স-এর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটি বড় পর্দার জন্যই তৈরি—এমন ধারণা শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে ছিল।

আইম্যাক্সে সিনেমাটির টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই সংখ্যা দেখিয়ে দেয়, দর্শকদের একটি বড় অংশ সিনেমাটি সাধারণভাবে দেখার বদলে বড় পর্দায় দেখতেই আগ্রহী।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তার সময়ে সিনেমা হলকে আবার দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে এমন অভিজ্ঞতা দিতে হয়, যা ঘরে বসে পুরোপুরি পাওয়া যায় না। নোলান সেই জায়গাটিই ধরতে পেরেছেন।

চীনে মুক্তির আগেই এক বিলিয়ন ডলার

‘দ্য ওডিসি’র আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনে মুক্তির আগেই সিনেমাটি এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় চলচ্চিত্র বাজার চীনে সিনেমাটির মুক্তি সামনে থাকায় ব্যবসা আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

চীনে প্রায় ৮০০টি আইম্যাক্স স্ক্রিনসহ বিপুলসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্তমান আয়ই যে শেষ নয়, তা বলাই যায়।

দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়েছে প্রশংসা

শুধু প্রথম সপ্তাহের ব্যবসা দিয়ে কোনো সিনেমার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য বিচার করা কঠিন। কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহেও যদি দর্শকদের আগ্রহ থাকে, তাহলে বোঝা যায় সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

‘দ্য ওডিসি’র ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড অব মাউথ বা দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন দর্শকের ভালো লাগা আরেকজনকে হলে যেতে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নোলানের সিনেমা বড় পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে দর্শকদের আলোচনা বক্স অফিসে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

তারকাবহুল কাস্টও বড় কারণ

নোলানের পাশাপাশি সিনেমাটির তারকারাও দর্শক টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ম্যাট ডেমন অভিনয় করেছেন ওডিসিউস চরিত্রে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, টম হল্যান্ড, জেন্ডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসনসহ একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতা।

ফলে সিনেমাটি শুধু নোলানের পুরোনো দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন তারকার ভক্তদেরও সিনেমাটির দিকে টেনে এনেছে এই কাস্ট।

আজকের বক্স অফিসে সুপারহিরো সিনেমা, অ্যানিমেশন এবং বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সাধারণত বেশি আলোচনায় থাকে। সেখানে ‘দ্য ওডিসি’র মতো প্রায় তিন ঘণ্টার একটি সিনেমা, যার গল্পের ভিত্তি হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য, এক বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বড় পর্দায় দেখার মতো শক্তিশালী গল্প ও অভিজ্ঞতা থাকলে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকরাও এখনো প্রেক্ষাগৃহে ফিরতে প্রস্তুত।

নোলানের সবচেয়ে বড় শক্তি – সিনেমাকে ইভেন্ট বানানো

‘দ্য ওডিসি’র সাফল্যের পেছনে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে , নোলান সিনেমাটিকে শুধু একটি নতুন ছবি হিসেবে দর্শকের সামনে হাজির করেননি। এটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় পর্দায় দেখার আলাদা আগ্রহ।

নোলানের নাম, হোমারের অমর মহাকাব্য, তারকাবহুল কাস্ট, আইম্যাক্স অভিজ্ঞতা এবং দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া , সবকিছু একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে ‘দ্য ওডিসি’র বক্স অফিস সাফল্য।

২২ দিনে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় তাই শুধু একটি সংখ্যার গল্প নয়। বরং এটি দেখাচ্ছে, ভালো গল্পের সঙ্গে যদি বড় পর্দার অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী নির্মাণ যুক্ত হয়, তাহলে দর্শক এখনো সিনেমা হলে ফিরতে প্রস্তুত।

Related posts

প্রিন্স মামুনের সেলুন চালাবেন অপু বিশ্বাস

News Desk

কারা ফটকে বিয়ে, ধর্ষণ মামলার বাদীকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিলেন নোবেল

brs@admin

তালহা স্বীকৃতি দেননি, প্রেগন্যান্ট শুনেই তালাক দিয়ে দেন : হ্যাপি

brs@admin

নির্যাতনের শিকার, হাসপাতালে ভর্তি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্র সম্পাদক

brs@admin

আমার শরীরকে আমি সত্যিই ভালোবাসি : তামান্না ভাটিয়া

brs@admin

জনপ্রিয় সংস্থা বাজাজ আনলো এবার সিএনজি স্কুটার

brs@admin
Translate »