ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রাঙ্গণে মারধর ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
পরীমণির আইনজীবী জানান, অসুস্থ থাকায় গতকাল তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি; সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরীমণি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদা গাড়ি করে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং বেলা পৌনে ১২টার দিকে শুনানির এজলাসে হাজির হন; এর আগে তিনি দুইবার ভুল এজলাসে ঢুকে ফিরে আসেন।

এদিন কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে আসেন পরীমণি। অভিযোগ উঠেছে, আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর দেহরক্ষীরা সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এক বিচারপ্রার্থীর মাথায় আঘাত করে রক্ত ঝরানোর অভিযোগও উঠেছে দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে।
জমি সংক্রান্ত পারিবারিক মামলায় ভাইকে নিয়ে আদালতে আসা মো. সুজন জানান, দেহরক্ষীর ধাক্কা ও আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুনানি শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিচতলায় কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে; পরে ফোনগুলো ফেরত দেওয়া হয়।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীমণি নিজে। তিনি বলেন, “কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়।” ওই ব্যক্তির দাবি, তিনি শুধু ভিডিও ধারণ করছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, ঘটনাগুলো তিনি দেখেননি; সত্যি হয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। পুলিশি নিরাপত্তা আরও জোরদার থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগেই ২৩ ডিসেম্বর ধার্য রয়েছে।




