নেটফ্লিক্সে মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের নজর কেড়েছে স্প্যানিশ ক্রাইম থ্রিলার ‘কলিশন কোর্স’। গত ৩০ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া ছবিটি পরদিনই বিভিন্ন দেশের নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে। ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রেও দৈনিক সর্বাধিক দেখা সিনেমার তালিকায় এক নম্বরে জায়গা করে নেয় এটি।
ব্যাংক ডাকাতির পর রহস্যের জাল
গল্পের পটভূমি ২০১৩ সালের মাদ্রিদ। অর্থনৈতিক সংকটে টালমাটাল স্পেনে একদল অপরাধী একটি ব্যাংকে ডাকাতি করে। কিন্তু পরিকল্পনামতো এগোয় না কিছুই, ডাকাতির পর থেকেই ঘটতে থাকে একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে দলটি জড়িয়ে পড়ে আরও জটিল পরিস্থিতিতে। নিজেদের মধ্যেও বাড়তে থাকে সন্দেহ আর অবিশ্বাস। সামনে আসতে থাকে পুরোনো মিথ্যা, গোপন তথ্য আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প। ফলে শুধু পালানো নয়, নিজেদের ভেতরের বিপদ সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ এর অভিনয়শিল্পীরা। কার্লা চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাইয়া কোস্তা, যিনি ‘ভিক্টোরিয়া’ ছবি দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন। পেদ্রো চরিত্রে রয়েছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা কারা এলেখালদে।
এরনেস্তো চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুইস সাহেরা। ‘দ্য বিস্টস’ ছবির জন্য ২০২৩ সালে তিনি গোয়া পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার স্বীকৃতি পান। তোমাস চরিত্রে তামার নোভাস, রাউল চরিত্রে আলভারো সেরভান্তেস আর লুইস চরিত্রে রয়েছেন লুইস ওমার।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন ড্যানিয়েল সানচেজ আরেভালো। ‘ডার্ক ব্লু অলমোস্ট ব্ল্যাক’ ও ‘সেভেনটিন’-এর মতো ছবির জন্য পরিচিত এই নির্মাতার প্রথম থ্রিলার এটি। চিত্রনাট্য লিখেছেন আরেভালো ও রামন কাম্পোস, প্রযোজনা করেছে বাম্বু প্রোদুকসিওনেস।

দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেললেও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। স্পেনের কয়েকটি চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রকাশনী ছবির গতি ও উত্তেজনা ধরে রাখার কৌশলের প্রশংসা করেছে। তবে শেষ অংশের দুর্বলতা আর চরিত্রগুলোর গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
সমালোচনা যাই হোক, ‘মানি হাইস্ট’-এর পর স্প্যানিশ ভাষার অপরাধনির্ভর গল্পের প্রতি বিশ্বদর্শকের আগ্রহ যে আরও বেড়েছে, ‘কলিশন কোর্স’-এর এই সাফল্য তা আবারও জানিয়ে দিল।




