সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে। সম্প্রতি নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭১ জন চাকরিতে যোগ না দেওয়ায় এসব পদ পূরণে নতুন করে নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।
তবে ৫৫২ জন প্রার্থী কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সব মিলিয়ে ৫৫৩ জন প্রার্থী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরবর্তী ধাপে যেতে পারেননি।
অন্যদিকে, নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি আরও ৯১৮ জন। ফলে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।
এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে আরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন।
দ্রুত নতুন নিয়োগের প্রস্তুতি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, অনেক প্রার্থী কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় শুরু থেকেই ধারণা করা হয়েছিল যে তারা চাকরিতে আগ্রহী নন। আবার কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেননি।
তাদের অনেকের অন্যত্র চাকরি হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি। সরকারি নিয়োগে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয় বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, বড় একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও পদ শূন্য থাকলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে মোট কতটি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, আবেদন শুরুর তারিখ, যোগ্যতা ও আবেদনের সময়সীমা—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।




