নিজ দেশে কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মধ্যে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের সমালোচনা করা শত্রু ও মিত্র দেশগুলোর নেতাদের তিনি ভাষণে আক্রমণ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাইলেভেল উইক’-এ নেতানিয়াহুর ভাষণে গাজা যুদ্ধ, ইরান, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। নিউইয়র্ক থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মামদানিকে ঘিরে উত্তেজনা
নেতানিয়াহুর অন্যতম সমালোচক নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসার আগে মামদানি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি পদক্ষেপ নেবেন।
তবে পরে মামদানি স্বীকার করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই। এ নিয়ে নেতানিয়াহু ও তাঁর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভাষণের আগে নেতানিয়াহু মামদানিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনাদের সম্পর্কে সত্য কথা বলব।’ একই সঙ্গে তিনি মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। মামদানি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্য সত্য নয়।
ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমালোচনার মুখে ইসরাইল
নেতানিয়াহুর ভাষণে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমালোচনাও উঠে আসতে পারে। অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি পণ্য রপ্তানির ওপর ব্রিটেন সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পশ্চিম তীরে হামাসের সক্রিয়তা নিয়ে করা মন্তব্যেও ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওই মন্তব্যকে ‘চরম হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করে। অঞ্চলটিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বাইবেলের নাম ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে।
ইরান প্রসঙ্গও গুরুত্ব পেতে পারে
নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিয়ে আসছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ করেন।
জাতিসংঘেরও সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু
নেতানিয়াহু জাতিসংঘ এবং বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে নেতানিয়াহু নিয়মিত সমালোচনা করে আসছেন।
ইসরাইলি সরকার জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটি এসব অভিযোগের পর বিভিন্ন তদন্ত ও পর্যালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।
এদিকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গাজায় ত্রাণ ও জরুরি সরবরাহ প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা বাধার কথা উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘে বিক্ষোভের আশঙ্কা
আগের বছরগুলোর মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিক্ষোভ হতে পারে। তাঁর নীতির প্রতিবাদে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের ভাষণ আন্তর্জাতিক ও ইসরাইলি রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।




