এমএ হান্নান, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের রামপালে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি জোরদার ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় রামপাল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করে রামপাল উপজেলা প্রশাসন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মনিরুল হক সরদার। এতে রামপাল উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা (সচিব) অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসী গ্রাম আদালতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প খরচে ও দ্রুত ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “গ্রাম আদালত হলো প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের অল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে বিচার পাওয়ার অন্যতম আশ্রয়স্থল। গ্রামীণ পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতি সপ্তাহে নিয়ম মেনে আদালতের অধিবেশন বসাতে হবে এবং কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে।”
গ্রাম আদালতে মামলা ও আবেদনের সংখ্যা বাড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্থানীয় মানুষ যেন মামলা নিয়ে সরাসরি অন্যত্র না গিয়ে প্রথমে গ্রাম আদালতে আসেন, সে জন্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রচার কার্যক্রম জোরদার করে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা তৈরি করতে হবে।”
গ্রাম আদালতের নথি ও রেজিস্টার হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দিয়ে ইউএনও বলেন, “গ্রাম আদালতের সকল নথিপত্র ও রেজিস্টার শতভাগ নিখুঁত এবং সবসময় হালনাগাদ রাখতে হবে। মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে রায় প্রদান ও বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত ফরম ও রেজিস্টারে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।”
ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি। গ্রাম আদালত সফল করতে আপনাদের সার্বক্ষণিক মনোযোগ ও নিষ্ঠা প্রয়োজন। প্রতিটি পাক্ষিক ও মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন সময়মতো উপজেলা প্রশাসনে দাখিল নিশ্চিত করতে হবে।”
সভায় রামপালের ১০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে থাকা বকেয়া মামলা নিষ্পত্তি, গ্রহণ করা মামলার অগ্রগতি এবং সরেজমিন তদারকিসহ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে সক্রিয় রাখার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।

