থাইল্যান্ডের বিদ্রোহকবলিত দক্ষিণাঞ্চলে এক রাতেই ৫১টি সমন্বিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের এসব ঘটনায় দুই বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি কার্যালয়, দোকান, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
দেশটির সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (আইএসওসি) জানিয়েছে, শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নারাথিওয়াত, ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।
হামলাগুলোর মধ্যে নারাথিওয়াত প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি স্থানীয় সরকারি দপ্তর ভবন ও একটি সেভেন-ইলেভেন দোকানে আগুন দেওয়া হয়। একই সময়ে একটি প্রশাসনিক কার্যালয় থেকে গাড়ি চুরি করে পরে সেটিতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়ে যাওয়া পিকআপটি পরে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও বিদ্যুতের খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারাথিওয়াতে শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।
স্থানীয় গভর্নর বুনচুয়াই হোমইয়ামিয়েন জানিয়েছেন, রোববার সকালে কর্তৃপক্ষ হামলাস্থলগুলোতে তদন্ত শুরু করেছে। নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোতে ২০০৪ সাল থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে চলমান এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
শনিবারের হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা নিয়মিত হামলার লক্ষ্য হয়ে থাকে। গত মাসে নারাথিওয়াতের একটি চেকপোস্টে গুলি ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হন।
এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগামী সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সফরে বিনিয়োগ, বন্যা প্রতিরোধ এবং দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।




