বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে নিজের আসন থেকে উঠে পাশে বসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান প্রধানমন্ত্রী। এক মিনিট পর অর্থাৎ ২টা ১১ মিনিটে তিনি ব্যালট পেপার ভোট বাক্সে ফেলেন।
এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন। ভোট দেওয়া শেষে তিনি উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
মির্জা ফখরুল বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেওয়ার পর ভোটগ্রহণ শুরু করেন।
ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর তারা বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রায় আট মিনিট সংসদ কক্ষে অবস্থানের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিতে থাকেন।
দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সর্বশেষ সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৯১ সালে
দেশে সর্বশেষ সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে ওই নির্বাচনে দেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি ১৭২ ভোট পেয়েছিলেন।



