BRS TIMES
মধ্যবর্তী ভোটে ভরাডুবি ‐ দুই কক্ষই হারাল ট্রাম্পের দল
আন্তর্জাতিকপ্রচ্ছদশিরোনাম

মধ্যবর্তী ভোটে ভরাডুবি ‐ দুই কক্ষই হারাল ট্রাম্পের দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের ফল আসতেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। মধ্যবর্তী ভোটে ভরাডুবি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির। প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) আর সিনেট, কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা। দুই কক্ষই এখন ডেমোক্র্যাটদের দখলে।

মঙ্গলবারের এই নির্বাচনে ভোট হয়েছে হাউসের সব ৪৩৫ আসনে, সিনেটের ৩৫ আসনে আর ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এই ভোটকেই দেখা হচ্ছিল তাঁর শাসনের ওপর গণভোট হিসেবে। ফলাফল বলছে, ভোটাররা সেই রায় দিয়েছেন রিপাবলিকানদের বিপক্ষে।

মধ্যবর্তী ভোটে ভরাডুবি যেভাবে ঘটল

হাউসের ৪৩৫ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ছিল ২১৮টি। ভোটের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২১৮ আসন, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪। ডেমোক্র্যাটদের দরকার ছিল মাত্র চারটি আসন বেশি। কিন্তু তারা পেয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। এনবিসি নিউজের প্রক্ষেপণ বলছে, ডেমোক্র্যাটরা পেতে যাচ্ছে অন্তত ২৪৪ আসন।

একের পর এক রিপাবলিকান ঘাঁটি ভেঙেছে। নিউ জার্সিতে হেরেছেন প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান টম কিন, পেনসিলভানিয়ায় এক দশকের বেশি সময়ের প্রতিনিধি ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। কেনটাকি, নর্থ ক্যারোলাইনাসহ নানা অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছে একই খবর। যেসব আসন ২০২৪ সালে রিপাবলিকানরা সহজে জিতেছিল, সেগুলোও হাতছাড়া হয়েছে।

সিনেটে ভোট ছিল ৩৫ আসনে। ভোটের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি আর স্বতন্ত্র ছিলেন দুজন। নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার ছিল আরও চারটি আসন। শেষ পর্যন্ত অন্তত ছয়টি আসন উল্টে দিয়ে সিনেটও নিজেদের করে নিয়েছে তারা।

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে টেক্সাস থেকে। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জিতলেন কোনো ডেমোক্র্যাট। জেমস ট্যালারিকো হারিয়েছেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে। কানসাসে জিতেছেন যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন। ১৯৩২ সালের পর এই অঙ্গরাজ্য থেকে প্রথমবার সিনেটে গেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট।

সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুস হারিয়েছেন ডারলিন গ্রাহামকে, ১৯৯৮ সালের পর এই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রথম সিনেট জয় এটি। নর্থ ক্যারোলাইনায় জিতেছেন সাবেক গভর্নর রয় কুপার, ওহাইওতে শেরড ব্রাউন আর আইওয়ায় জশ টুরেক। মেইনে পাঁচবারের সিনেটর সুসান কলিন্স হার মেনে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের কাছে।

নিউ হ্যাম্পশায়ার আর জর্জিয়ার আসন ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফ্লোরিডায় জিতেছেন রিপাবলিকান অ্যাশলি মুডি। মিশিগানের আসনটি নিয়ে টানটান উত্তেজনা চলছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ এগিয়ে আছেন সামান্য ব্যবধানে। কয়েকটি আসনের গণনা এখনো শেষ হয়নি, তবে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

শুধু কংগ্রেস নয়, গভর্নর পদেও বড় সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় জিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস। টেক্সাসে তিনবারের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন জিনা হিনোজোসা, ১৯৯০ সালের পর ওই পদে প্রথম ডেমোক্র্যাট জয় এটি।

ওহাইওতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর হয়েছেন অ্যামি অ্যাক্টন। আইওয়ার গভর্নর পদও গেছে ডেমোক্র্যাট রব স্যান্ডের দখলে। উইসকনসিনে গভর্নর পদের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য আইনসভার দুই কক্ষই জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা, ২০১০ সালের পর প্রথমবার।

কেন এই ভরাডুবি? ভোটারদের এক্সিট পোল বলছে, প্রায় প্রতি ১০ জনের ৯ জনই জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটের বড় কারণ বলেছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার দাম বাড়ার জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। চার ভাগের তিন ভাগ ভোটার দেশের অবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট বা ক্ষুব্ধ ছিলেন। ৬২ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের কাজে অসম্মতিও জানিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও ভোটে বড় ছাপ ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, হিসাব বলছে প্রতিটি পরিবারের খরচ বেড়েছে গড়ে প্রায় দুই হাজার ডলার। তরুণ আর হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সরে গেছে। ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশই ভোট দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের।

জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন ভোটারের প্রায় ৭ জন চান কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর আরও শক্ত নিয়ন্ত্রণ রাখুক। অর্থাৎ শুধু অর্থনীতি নয়, ট্রাম্পের একতরফা শাসন নিয়েও ভোটারদের আপত্তি ছিল স্পষ্ট।

হার মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, ফলাফল তিনি মেনে নেবেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও রাজি আছেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি নিজে ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরাই জিতত। ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বাড়াও হারের একটা কারণ, সেটাও স্বীকার করেছেন তিনি। পাশাপাশি হুমকি দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের এজেন্ডা আটকাতে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তিনি।

নতুন কংগ্রেস বসবে আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৭। দুই কক্ষ হাতে পেয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের ব্যয়, সিদ্ধান্ত এমনকি ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসা নিয়েও তদন্ত শুরু করতে পারবে। বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগেও এখন ডেমোক্র্যাটদের মতামত ছাড়া এগোনো কঠিন হবে। ফলে ট্রাম্পের বাকি দুই বছর কাটবে কংগ্রেসের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই। আর এই ফলের ছাপ পড়বে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও।

Related posts

যে স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন মমতাজ

brs@admin

স্বৈরাচারের দোসরদের দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে : তারেক রহমান

brs@admin

উড্ডয়নের ২১ মিনিট পরই শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণ

News Desk

সুদানে শাহাদাত বরণকারী শান্তিরক্ষীদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত

News Desk

একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু

News Desk

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

brs@admin