বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার করছাড় পায় তৈরি পোশাক খাত, তবু পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সবার পেছনে বাংলাদেশ। চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম তো বটেই, ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও কম মজুরি পান এ দেশের শ্রমিকেরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক ও বস্ত্র খাত শুধু করপোরেট করে ছাড় পেয়েছে ৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। এই খাতে করপোরেট কর মাত্র ১২ শতাংশ, পরিবেশবান্ধব কারখানায় ১০ শতাংশ। অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয় ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ। এর বাইরে নগদ সহায়তা আর বন্ড সুবিধাও পায় পোশাক খাত।
অথচ এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১০২ ডলার। একই হিসাবে চীনে ২৯৪, কম্বোডিয়ায় ২০৮, ইন্দোনেশিয়ায় ১৭২, ভিয়েতনামে ১৬৩, পাকিস্তানে ১৩৫ ও ভারতে ১২৪ ডলার।
দেশের চার খাতের মজুরিও পোশাকের চেয়ে বেশি
শুধু বিদেশের সঙ্গে তুলনায় নয়, দেশের ভেতরেও পিছিয়ে পোশাক খাত। ট্যানারি, জাহাজভাঙা, স মিল ও নির্মাণ—এই চার খাতের ন্যূনতম মজুরি তৈরি পোশাকশিল্পের চেয়ে বেশি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর হওয়ার সময় ডলারের হিসাবে তা ছিল ১১৩ ডলার। তিন বছরে টাকার মান কমায় এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১০১ ডলারে। অথচ গত বছর তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলারের, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
শ্রমিকনেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকের জীবন দুর্বিষহ, অনেকে খাবারের খরচ কমিয়ে ঋণে জড়াচ্ছেন। গবেষকদের মতে, তিন বছর আগেই জীবনযাত্রা উপযোগী মজুরি হওয়া উচিত ছিল ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। আন্দোলনের মুখে রোববার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।




