রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আগে ৬০ দিন সময় নিয়ে অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) রুবিও বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময় প্রয়োজন।
ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মালিকানাধীন মার-এ-লাগো ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই এখনো জানেন না আমার সিদ্ধান্ত কী। তবে আমরা বিষয়টি ঠিক করে ফেলব এবং আপনারাও তা জানতে পারবেন।’
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। একই সময়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বিঘ্ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণ কী?
শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর আওতায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিল করেন ট্রাম্প। অথচ ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে আইনপ্রণেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত মাসেই তিনি এই আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।
আইনটির আওতায় রুশ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। তবে শুক্রবারের আদেশে বিধিনিষেধ শিথিলের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হয়নি।
রুবিও জানান, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করতে ট্রাম্প ৬০ দিনের সময় নিতে চান। উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি এমনকি মার্কিন অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া
এদিকে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তির পক্ষেও অবস্থান তুলে ধরেছেন রুবিও। জ্বালানির উচ্চমূল্য কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর নভেম্বর মাসে এবং পরবর্তী সময়েও আরও চালান আসার কথা রয়েছে।
রুবিও বলেন, এই ডিজেল কোনো না কোনোভাবে বিক্রি হবেই। মূল পার্থক্য হলো, এর কতটা অংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।
রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজেল সরবরাহের চুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা জটিলতা তুলে ধরে। এসব সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।




