বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের ভূমিকা এবং তৎকালীন ছাত্র রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে আবরার ফাহাদ হত্যা, মামলার আইনজীবী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্রনেতার ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
রাশেদ খান তার পোস্টে দাবি করেন, আবরার ফাহাদ হত্যার পর শিশির মনিরদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি লেখেন, ‘আবরারকে হত্যার পর শিশির মনিরদের ভূমিকা কী ছিল, তারা কেন নীরব ছিলেন। কারণ তারা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে।’
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন। পরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ভবিষ্যতে আবরার হত্যা মামলার আসামিপক্ষে আইনি লড়াই না করার কথা জানিয়েছিলেন।
শিশির মনিরের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, আবরার ফাহাদের বাবা আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরের ভূমিকা নিয়ে কষ্ট প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে আবরারকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হত্যা করা হয়েছিল—এমন বক্তব্যও তার পোস্টে তুলে ধরেন তিনি।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময়ের আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে বর্তমান ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নুরুল হক নুরের ভূমিকা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের কঠিন সময়ে নুর ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম নাম।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের অবদানের তুলনায় নুরুল হক নুরের ভূমিকা বেশি ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বের সমালোচনাও করেন।
আবরার ফাহাদ হত্যা
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
আবরারকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তার রাজনৈতিক আদর্শ বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও বিতর্ক রয়েছে।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত একাধিক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্ররাজনীতির অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।




