নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিউইয়র্কে এক বৈঠকে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। বৈঠকে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয়গুলো পাশে রেখে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্প তার সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি তাকে ‘আমার ছোট কমিউনিস্ট’ এবং ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে দুজনের মধ্যে তুলনামূলক উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প মামদানিকে বলেন, ‘আশা করি, আপনি একজন দারুণ মেয়র হবেন। আমি বলতে পারব, আপনি একজন দারুণ মেয়র হতে যাচ্ছেন। আর আপনি ভালোভাবেই শুরু করেছেন।’
ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। গত বছর মেয়র নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এটি ছিল ট্রাম্প ও মামদানির তৃতীয় প্রকাশ্য বৈঠক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা ট্রাম্পের বিষয়ে মামদানি বলেন, ‘শহরের প্রতি প্রেসিডেন্টের অঙ্গীকারকে আমরা স্বাগত জানাই।’
৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতামত তুলে ধরেন।
বৈঠকে নিউইয়র্কে ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মামদানি। গত ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে দুজন প্রথমবার আলোচনা করেছিলেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফেডারেল সরকারের আনুমানিক ২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
মামদানি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ‘অনেক মতপার্থক্য’ থাকলেও নিউইয়র্কের স্বার্থে তার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন তিনি।
মেয়রের সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সব সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের স্বাগত জানানো হবে বলেও ট্রাম্পকে জানান মামদানি।
সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, ‘মতামত বা সমালোচনা যা-ই হোক না কেন, সবার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রাখা উচিত।’
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন—এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।




