ঢাকা: ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার চাপারে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ৩,২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এই কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পটি নির্মাণপর্বে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে আদানি গ্রুপ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ঠিকাদার, সরবরাহকারী, পরিবহন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। চারটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। এতে উচ্চ দক্ষতার প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। ধাপে ধাপে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আসাম দ্রুত ভারতের একটি জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প রাজ্যে এখন পর্যন্ত একক বৃহত্তম বিনিয়োগগুলোর একটি। এর ফলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাজ্যের কর রাজস্ব বাড়বে।
আদানি গ্রুপের পরিচালক জিৎ আদানি বলেন, আসামের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবার, ব্যবসা ও শিল্পকারখানার জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করা হবে।
আদানি পাওয়ার ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ভারতের ১৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠানটির মোট তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ হাজার ২৯০ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু ও উত্তর প্রদেশে অবস্থিত। গুজরাটে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
চাপরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আসামে আদানি গ্রুপের প্রায় ৭৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি পাম্পড স্টোরেজ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে আদানি গ্রিন এনার্জি।
এ ছাড়া আদানি এনার্জি সলিউশন্স আসামে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্মার্ট মিটার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিমান ও সিমেন্ট খাতেও আসামে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার বছরে আসামে আদানি গ্রুপের মোট বিনিয়োগ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পায় আদানি পাওয়ার। পরে নভেম্বরে আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় প্রতিষ্ঠানটি।




