29.3 C
Bangladesh
Saturday, October 17, 2026
BRS TIMES
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানে
অন্যান্য সংবাদআইন-আদালতজাতীয়প্রচ্ছদশিরোনাম

‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি দাবি করেছেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‌্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বন্দিদের গভীর রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হতো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক।

সাক্ষ্যে তিনি বলেন, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে র‌্যাবের দুই সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে দিতে বলতেন। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‌্যাবের চার-পাঁচটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে আসত। এসব গাড়িতে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো।

আব্বাস মল্লিকের দাবি, ট্রলার ছাড়ার সময় র‌্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তা সঙ্গে নিতেন। এরপর ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর গভীর পানিতে নিয়ে গিয়ে বন্দিদের একজন একজন করে বাইরে আনা হতো।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্টের মধ্যে দুই র‌্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান এসে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন বলে তিনি দাবি করেন।

লাশ ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কাটার দাবি

সাক্ষী আরও দাবি করেন, গুলি করে হত্যার পর মৃতদেহের গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

আব্বাস মল্লিকের দাবি, অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়েও গুলি করে হত্যা করা হতো। পরে সাংবাদিকদের ডেকে এনে এসব ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানো এবং লাশ থানায় হস্তান্তর করা হতো।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা, বাহরাইন-কুয়েত-জর্ডানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা, বাহরাইন-কুয়েত-জর্ডানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে এলে মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো বলেও সাক্ষ্যে জানান তিনি।

নিখোঁজ ভাইয়ের কথাও বলেন সাক্ষী

জবানবন্দিতে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার দাবি, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‌্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। পরে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বাজারে আলোচনা করায় অন্য বোটের মালিকেরা তাকে সতর্ক করেছিলেন।

আব্বাসের ভাষ্য, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে আলকাছ বাড়ি থেকে বের হন। তাকে ফোন করে বলা হয়েছিল, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা-মানিকখালী এলাকায় ডেকেছেন। ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভাইয়ের সন্ধানে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার র‌্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেন আব্বাস। পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে জিয়াউল আহসান ও র‌্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক। একই সঙ্গে নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের বিষয়ে বিচার দাবি করেন তিনি।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

Related posts

আ’লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আটক ৩০, ককটেল উদ্ধার

News Desk

আরেকটি চমক দেখাল কেপ ভার্দে, স্পেনের পর রুখে দিল উরুগুয়েকেও

brs@admin

দেশে ফিরেছেন ৪২হাজার ৯৫০ জন হাজি

brs@admin

ইসরাইলি হামলায় নিহত হননি ইসমাইল কানি, হাজির তেহরানের বিজয় উৎসবে

brs@admin

দাবি না মানলে নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য, এমন অবস্থান অগণতান্ত্রিক

News Desk

উদয় কুসুম বড়ুয়াকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি

News Desk
Translate »