ন্যু-ক্যাম্পে বার্সাকে পাত্তাই দিলোনা আতলেতিকো মাদ্রিদ । বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুয়ে একটি জয় যেনো আতলেতিকো মাদ্রিদের জন্য স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জনের দল নিয়েও এদিনও একচেটিয়া আধিপত্য, একের পর এক আক্রমণ দেখালো বার্সেলোনা। কিন্তু গোলের দেখাটাই পাওয়া হলো না তাদের। অন্যদিকে, সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ জয় তুলে নিল আতলেতিকো মাদ্রিদ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিনগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো। দলের হয়ে গোল দুটি করেন হুলিয়ান আলভারেস ও আলেকসান্দার সরলথ।
এই জয়ের মাধ্যমে ক্যাম্প ন্যুয়ে বার্সার বিপক্ষে দীর্ঘ ২০ বছরের খরা কাটাল দিয়েগো সিমেওনের শিষ্যরা। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বার্সেলোনার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরল মাদ্রিদের দলটি।
আতলেতিকোর কোচ হিসেবে ক্যাম্প ন্যুয়ে এর আগে ১৯ বার চেষ্টা করেও জয়ের মুখ দেখেননি দিয়েগো সিমেওনে। ২০তম বারের চেষ্টায় অবশেষে ধরা দিল সেই আরাধ্য জয়। এই হারের মাধ্যমে ঘরের মাঠে বার্সার টানা ১৪ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রাও থেমে গেল।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াই কিংবা গোলের জন্য শট– সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। ৫৬ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নেয় হান্সি ফ্লিকের দল। যার মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে ছিল । বিপরীতে, ৪৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ৬টি শট নেয় আতলেতিকো। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৩টি।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। তবে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি রাশফোর্ড।
এরপর আরও কয়েকটি আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ হয়। তবে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বক্সের মধ্যে গিয়ে আটতে যেতে হয়েছে বার্সা-আতলেতিকোর ফরোয়ার্ডদের। কখনো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া আবার কখনো আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো।
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বার্সেলোনা। বক্সের ঠিক বাইরে জুলিয়ানো সিমেওনেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বার্সার তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি।
সেই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেস। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তাঁর নবম গোল, যা আতলেতিকোর কোনো খেলোয়াড়ের জন্য এক আসরে সর্বোচ্চ।
দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় একজন কম নিয়ে খেললেও আক্রমণে কোনো ছাড় দেয়নি বার্সেলোনা। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে সমতায় ফেরার ভালো সুযোগ পায় তারা। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে আগুয়ান গোলরক্ষককে কাটান র্যাশফোর্ড, কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে পাশের জালে লাগে তার শট।
উল্টো ম্যাচের ৭০তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল হজম করে হান্সি ফ্লিকের দল। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে ভলিতে গোল করে বার্সার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বদলি নামা স্ট্রাইকার আলেকসান্দার সরলথ।
ম্যাচের শেষ দিকে দানি ওলমো ও আরাউহো সুযোগ পেলেও গোল শোধ করতে পারেননি।
আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। প্রতিপক্ষের মাঠে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে রইল সিমেওনের দল। অন্যদিকে, পরের রাউন্ডে যেতে হলে আতলেতিকোর মাঠে অসাধ্য সাধন করতে হবে বার্সেলোনাকে।

