ট্রোল উপেক্ষার সংকল্পে স্বস্তিকা মুখার্জি, সমাজ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য । ওপার বাংলার অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান সমাজব্যবস্থা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের জন্য নিজের নেওয়া একটি ব্যক্তিগত সংকল্পের কথাও জানিয়েছেন।
অভিনেত্রী জানান, ছোটবেলা থেকে পাড়া–প্রতিবেশীদের ‘মামা’, ‘কাকা’ কিংবা ‘দাদা’ সম্বোধন শুনে বড় হলেও মায়ের মৃত্যুর পরদিনের একটি ঘটনা তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আনে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের মৃত্যুর পরদিন সকালে এক প্রতিবেশী এসে মরদেহ দাহ করা হয়েছে কি না জানতে চান। সেই ঘটনাকেই তিনি নিজের জীবনের একটি ‘আই ওপেনার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।ওই দিন থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, মানুষ মূলত নিজ নিজ জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত।


সমসাময়িক সামাজিক আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন স্বস্তিকা। তার মতে, এখনকার অধিকাংশ বিপ্লবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক, যেখানে বাস্তব প্রয়াস খুব কম। তিনি বলেন, অনলাইনের প্রতিক্রিয়া যদি বাস্তবতায় প্রতিফলিত হতো, তবে বাংলা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। নতুন ভাবনা ইতিবাচক হলেও কারিগরি দক্ষতা দুর্বল হলে কাজের গতি ব্যাহত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজন হলে সেটে কঠোর আচরণ করতেও দ্বিধা করেন না বলেও উল্লেখ করেন।
নারী ক্রিকেট দলের প্রসঙ্গ টেনে স্বস্তিকা বলেন, বিশ্বকাপজয়ী একটি দলকে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম’ না বলে ‘মহিলা ক্রিকেট টিম’ হিসেবে আলাদা করে উল্লেখ করার প্রবণতা সমাজের মানসিকতারই প্রতিফলন। তার মতে, ‘মহিলা’ ট্যাগ যুক্ত করে আলাদা করে দেখানোর এই সংস্কৃতিই বৈষম্যের ইঙ্গিত বহন করে।
২০২৬ সালের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, ট্রোল উপেক্ষা করাই তার নতুন বছরের সংকল্প। যদিও চলতি বছরে ইতিমধ্যে কয়েকবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তবু নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

