নতুন সরকারের কাছে সংস্কৃতি অঙ্গনের কিছু চাওয়া । নতুন সরকার গঠনের পর দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শুরু হয়েছে প্রত্যাশা আর আলোচনার নতুন অধ্যায়। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের মানুষরা চাইছেন স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন।
অভিনেতা আবুল হায়াত মনে করেন, টেলিভিশন ও বেতারের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে আনা জরুরি। তাঁর মতে, স্বায়ত্তশাসন থাকলে সৃজনশীলতা বিকশিত হয় এবং স্বজনপ্রীতির পরিবর্তে মানসম্মত অনুষ্ঠান তৈরি সম্ভব।
একই সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমিসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। শিল্পীরা নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করতে পারেন, তবে শিল্পের চেয়ে দলীয় আনুগত্য যেন বড় হয়ে না ওঠে, সেই প্রত্যাশাও তুলে ধরেন এই গুণী অভিনেতা।
অন্যদিকে অভিনেত্রী তানজিন তিশা সামাজিক মাধ্যমে জাইমা রহমানকে প্রশংসা করে বলেন, বিদেশে বেড়ে উঠলেও তিনি দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে মর্যাদার সঙ্গে ধারণ করছেন। ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেওয়াকে তিনি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে নতুন সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন শাকিব খান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সরকারি অনুদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। অনুদান বাছাইয়ে স্বচ্ছ কমিটি, অনলাইন স্কোরিং এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের মতো প্রস্তাবও দেন এই অভিনেতা।
প্রেক্ষাগৃহ সংকট মোকাবিলায় জরাজীর্ণ হল সংস্কার, স্বল্পসুদে ঋণ, কর ছাড় এবং পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বে নতুন মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের ওপর জোর দেন শাকিব খান। পাশাপাশি যেসব জেলায় হল নেই সেখানে ছোট ডিজিটাল প্রেক্ষাগৃহ তৈরির কথাও বলেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তি, অনলাইন টিকিটিং এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রদর্শন কোটা চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি একটি নিরাপদ, পেশাদার ও ঝামেলামুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পীরা চাইছেন এমন এক পরিবেশ, যেখানে সৃজনশীলতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বই হবে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি।

