29.6 C
Bangladesh
Friday, October 16, 2026
BRS TIMES
অন্যান্য সংবাদপ্রচ্ছদভ্রমণশিরোনামসারাদেশ

দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত সুন্দরবন পর্যটনকেন্দ্র

এমএ হান্নান, খুলনা : দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে সোমবার (পহেলা সেপ্টেম্বর) থেকে আবারও খুলেছে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। বনের অভয়ারণ্যসহ পুরো সুন্দরবনজুড়ে নতুন উদ্যমে শুরু হবে জেলেদের মাছ ধরা ও পর্যটকদের আনাগোনা। এরই মধ্যে ১১টি পর্যটনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্য এলাকাগুলোয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী ও মাৎস্য প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদ-নদী, খাল ও বনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলে ও বনজীবীদের নৌযান চলাচলও বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে পড়েছিলেন হাজার হাজার জেলে ও বনজীবী।
সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার চিলা,জয়মনি,বৌদ্ধমারী এলাকার জেলে জানান, এই তিন মাস তারা প্রায় অর্ধাহারে কাটিয়েছেন। পরিবার চালাতে এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে তারা ট্রলার, জাল ও খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে সুন্দরবনে ফেরার অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন।
পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িতরা বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে বনে প্রবেশের অনুমতি মিললেও এটি পর্যটনের অফ সিজন। অক্টোবর-নভেম্বর থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। তারপরও কিছু পর্যটক যোগাযোগ করেছেন। সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য বোট বা ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।যাতে আগত অল্প কিছু সংখ্যক পর্যটকদের কোন প্রকার ভোগান্তি না হয়।
দীর্ঘদিন অলস বসে থেকে জীবিকা চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘পর্যটকদের স্বাগত জানাতে কটকা, কচিখালী, করমজল, হারবাড়িয়া ও আন্ধারমানিকসহ ১১টি পর্যটনকেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোকসমাগম না থাকায় হরিণ, বানরসহ বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। এখন সকাল-বিকাল হরিণের দৌড়ঝাঁপ দেখা যায়। এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাছ ধরা ও পর্যটকদের জন্য অনুমতিপত্র (পাস) ইস্যু শুরু হয়েছে।’ সংশ্লিষ্ট সব টহল ফাঁড়িকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের বরণ ও জেলেদের মাছ ধরার জন্য বন বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মৎস্য ও বনজীবীদের সহায়তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, যা এখন যাচাই করেছে মৎস্য দফতর। আগামী বছর থেকে জেলেরা খাদ্য সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দরবনে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কয়েক বছরের মতো এবারও পয়লা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময়ে সুন্দরবনের ভেতরে সব নদী ও খালে মাছ আহরণে যেতে পারেননি কেউ। এতে সুন্দরবনে নদী ও খালে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পায়। সুন্দরবনে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেট রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিংয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর তিন মাসের জন্য বন্ধ থাকে সুন্দরবন।’

বিআরএসটি/এসএস

Related posts

গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

News Desk

প্রতিবাদ না করলে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে: আলাল

News Desk

আরেকজন স্বৈরশাসকের উত্থান রোধ করাই সংস্কারের লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

News Desk

নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা, নিহত ৩

News Desk

টাঙ্গাইলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

News Desk

ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পর ইউক্রেনে ড্রোন নিক্ষেপ

brs@admin
Translate »