সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
শাহকে তার পরামর্শ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিভ্রান্ত না করে তাকে যেন যেকোনো মঞ্চে খোলা বিতর্কে বসতে রাজি করানো হয়। আর সেই ভিডিওতেই ফিরে এসেছে রাহুলের পুরনো মন্তব্য, তাঁদের আমি পাগল করে দেব।
রাহুল গান্ধী: পাগল মন্তব্যের কারণ
রাহুলের পোস্ট করা ভিডিও মন্টাজে শাহের দুই সময়ের দুই রকম বক্তব্য পাশাপাশি রাখা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদে শাহ বলেছিলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে দুই কক্ষে আলোচনা সম্ভব নয়।
অথচ গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে আলোচনায় বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সরকার প্রস্তুত। এই বৈপরীত্য তুলে ধরেই নিজের বার্তা দেন রাহুল।
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় রাহুল লেখেন, অমিত শাহজি, মোদিজিকে বিভ্রান্ত করবেন না। বরং তাকে রাজি করান, যেন তিনি আমার সঙ্গে খোলা বিতর্কে বসেন। যেকোনো মঞ্চে, যেকোনো সময়।
শেষে তার সংযোজন, ভয় পাবেন না। কংগ্রেসের দাবি, এসআইআর-এর আড়ালে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোট চুরির পথ তৈরি হচ্ছে, আর সেই প্রশ্নের জবাব এড়াতেই অবস্থান বদলাচ্ছে সরকারপক্ষ।
পাগল করে দেব মন্তব্যটি রাহুলের আগের এক বক্তব্যের অংশ, হিন্দিতে তিনি বলেছিলেন, ইনকো হাম পাগল কর দেঙ্গে। মন্টাজের শেষে হাস্যোজ্জ্বল রাহুলের ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছেন জাতীয় বার্তা। অর্থাৎ,
শাহের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে রাহুল শিবির দেখাচ্ছে সেই পাগল করে দেওয়ারই প্রমাণ হিসেবে। এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে, মোদি-শাহকে লক্ষ্য করে কেন এমন মন্তব্য করেছিলেন রাহুল।
প্রেক্ষাপটটা গড়ে উঠেছে এসআইআর বিতর্ক ঘিরে মাসখানেকের টানাপোড়েনে। গত ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে রাহুল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মোদিকে পালাতে দেওয়া হবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে কারাগারে পাঠানোর কথাও বলেন তিনি। তার দাবি ছিল, জ্ঞানেশ কুমারের পর মোদি-শাহর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জবাবে বিজেপি বলেছে, রাহুল কাটছাঁট করা ও প্রসঙ্গছাড়া ভিডিও ছড়াচ্ছেন। সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর মন্তব্য, বিভ্রান্তি আসলে রাহুলের নিজেরই। শাহ আগেই বলেছিলেন, এই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি জরুরি নয়। বিতর্কের চ্যালেঞ্জ আর পাল্টা অভিযোগে আপাতত জমে উঠেছে দিল্লির রাজনীতি।




