সদস্যপদ স্থগিতের খবর প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের ওই লাইভে শুটিং সেটের বিরোধ, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণ আর গত আট মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তানজিন তিশা: লাইভে যা বললেন
শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ, দুই অভিনেত্রীরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ।
গত ৪ অক্টোবর দুজনের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ জুলাই সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কেউই তার জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি।
সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু। শুক্রবার রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ মার্চ। মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তিশা ও অথৈর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। অথৈ ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, শুটিংয়ের সময় তিশা তাকে চড় মেরেছেন ও নখ দিয়ে আঁচড় দিয়েছেন।
এরপর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিষয়টি আলোচনায় আসে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

লাইভে সেদিনের ঘটনার প্রসঙ্গ আবারও তোলেন তিশা। তার ভাষ্য, পুতুলের বিয়ে নাটকের শুটিং সেটে সেদিন যা ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই দেখেছেন। নাটকে পাগলের চরিত্রটি তিনিই করেছেন, দৃশ্যটি কোনো কাটছাঁট ছাড়াই আছে। দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যাবে, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে আর নির্যাতনের দাবির ভিত্তি কতটুকু।/
সালিশ বৈঠকের প্রসঙ্গে তিশা বলেন, সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে দুই পক্ষের পুরো বক্তব্য শুনেছিলেন। সেই বৈঠকের লিখিত নোটিশও তার কাছে আছে।
সিদ্ধান্ত ছিল, দুজনই ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেবেন এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাবেন। অথৈ ভিডিওটি দেননি, তিনিও কোনো কারণে দিতে পারেননি। নোটিশ অমান্য করায় আজ সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি এসেছে, ঠিক আছে, বলেন তিনি।

লাইভে তিশা আরও বলেন, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার বদলে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা কিংবা কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চান, তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
গত এক বছরে তাকে ঘিরে ওঠা নানা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শাড়ি কাণ্ডও দেখেছেন তিনি। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। তিনি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছেন।




