স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দূরত্ব বেড়েছে, ১১ দলীয় ঐক্য জোটে ফাটল ধরেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা চলছে। লংমার্চ কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও দুই দলই আলাদাভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে লড়ছে না ১১ দলীয় ঐক্য।
জোটে ফাটল নয়, কৌশল বলছেন নেতারা
তবে ফাটলের অভিযোগ নাকচ করেছেন দুই দলের নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো দূরত্ব নেই, যা দৃশ্যমান তা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল মাত্র। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা দাবির প্রশ্নে ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, একটি কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলাম যেতে পারেননি, তিনি অসুস্থও হতে পারেন। দুই দলের মধ্যে বিন্দুমাত্র দূরত্ব নেই, সংসদে ও সংসদের বাইরে একসঙ্গে কর্মকাণ্ড চলছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেছেন, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপি এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জামায়াতও এককভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই এতে জোটে দূরত্ব তৈরির প্রশ্ন ওঠে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি কমিটি পুনর্গঠন করে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করছে। আসন সমঝোতা বা ভোটের অঙ্কে দলগুলোর নিজস্ব রণকৌশল থাকতেই পারে, সেটিকে জোটের ভাঙন হিসেবে দেখানো অতিরঞ্জন।
এদিকে দুই সিটি করপোরেশনে আলাদা প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দুই দলই। উত্তরে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েম। অন্যদিকে এনসিপির উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তবে জোটের একাংশের নেতাদের মতে, সিটি নির্বাচন জোটগতভাবে হলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকত। আলোচনার দরজা খোলা থাকায় শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।




