আমেরিকার ধসের ঢেউ শুক্রবার আছড়ে পড়েছে এশিয়ার বাজারেও। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক এক পর্যায়ে প্রায় ৯ শতাংশ পড়ে গেলে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে এক দিনেই মুছে গেছে প্রায় আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য।
আমেরিকার ধসের ঢেউ: নাসডাক থেকে কোস্পি
বৃহস্পতিবার প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক পড়েছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে শুল্ক ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন। এতে সূচকটি সংশোধনী অঞ্চলে ঢুকে গেছে, অর্থাৎ ৬ অক্টোবরের রেকর্ড চূড়া থেকে পতন ছাড়িয়েছে ১০ শতাংশ। ডাও জোন্স কমেছে ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট, আগের দিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে পাওয়া ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্টের উত্থান এক দিনেই মিলিয়ে গেছে।
এই ধসের সূত্রপাত টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার জয়। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের কিছু করছাড় বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এই অঙ্গরাজ্যেই।
ফলে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে প্রযুক্তি খাত। এনভিডিয়ার শেয়ার পড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, মুছে গেছে চলতি বছরের সব লাভ। চিপ সূচক কমেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন। টেসলার দরপতন ১১ শতাংশ, স্পেসএক্সের ৯ শতাংশ, কোরউইভের প্রায় ১০ শতাংশ, নেবিয়াসের প্রায় ১৫ শতাংশ। দুর্বল পূর্বাভাসে কোয়ালকমও হারিয়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ।
এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ১১টি খাতের সবকটিতেই পতন হয়েছে। বাজারের ভয়ের সূচক ভিআইএক্স একলাফে বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ, দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা ট্রেজারি বন্ডের দিকে ঝুঁকলে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের মুনাফা কমে দুই মাসের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য এটিকে স্বাভাবিক সংশোধনী হিসেবেই দেখছেন। ইয়ার্ডেনি রিসার্চের মতে, এআই বুদ্বুদ হঠাৎ ফেটে যাওয়ার চেয়ে ধীরে ধীরে চুপসে যাওয়াই ভালো। ট্রুইস্টের কিথ লার্নারের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পতন সুযোগও হতে পারে।
৬ অক্টোবরের চূড়া থেকে নাসডাক এখন প্রায় ১২ শতাংশ নিচে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। আর ৫ আগস্টের চূড়া থেকে ডাও জোন্স পিছিয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।




