যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন আবদুল আল-সাইদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।
কে এই আবদুল আল-সাইদ
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আল-সাইদের জন্ম ১৯৮৪ সালে মিশিগানের রচেস্টার হিলসে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট করেন তিনি। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেন চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি।
পেশাজীবনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আল-সাইদ মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে প্রার্থী হলেও দলীয় প্রাইমারিতে হেরে যান। পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
গত বছর দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন আল-সাইদ। স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিকদের অধিকার আর করপোরেট জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, আল-সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল প্রশ্নে অবস্থান ও প্রগতিশীল নীতি স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকিতে ফেলবে, বাড়িয়ে দেবে জীবনযাত্রার ব্যয়। কিন্তু মিশিগানের ভোটাররা সেই প্রচারণায় কান দেননি।
প্রচারণার একপর্যায়ে আল-সাইদের নামের উচ্চারণ নিয়েও কটাক্ষ হয়। জবাবে তিনি বলেছিলেন, তাঁকে একদিন ‘সিনেটর’ বলেই ডাকতে হবে। ভোটের ফলাফলে সেই জবাবই বাস্তবে রূপ নিল।

আল-সাইদের এই জয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্যেরই অংশ। হাউস ও সিনেট, দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের সঙ্গেই শপথ নেবেন আল-সাইদ।




